'ঝরাপাতা' শব্দটা শুনলে কেমন একটা বিয়োগ ব্যথা অনুভব হয়, একটা মন খারাপের রেশ আসে। একটা সতেজ সবুজ পাতা আস্তে আস্তে করে শুকিয়ে গিয়ে ঝরাপাতায় পরিণত হয়। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধরিত্রীর বুকে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু এটাই কি শেষ? সবসময় বোধহয় না।
কখনও কখনও কিছু কিছু পাতার মধ্যে থেকে শিকড় বেরিয়ে নতুন গাছেরও জন্ম হয়। সেটা হয়তো অনেক বড় গাছ হয় না, কিন্তু গাছটা সতেজ ও সবুজ থাকে। সবকিছু না হলেও ওই শিকড়টাই তখন বাঁচার সম্বল হয়ে দাঁড়ায় যেটাকে আঁকড়ে ধরে গাছটা নতুন করে বেঁচে ওঠে। ঝরে পড়ার যে বিয়োগ ব্যথা তা নতুন উৎপত্তির আনন্দের সঙ্গে অনেকটাই লঘু হয়ে যায়।
প্রতিটা ঝরাপাতা আকৃতি, প্রকৃতি, রং, রূপ বিশেষে একে অপরের থেকে আলাদা হয়; প্রত্যেকের নিজস্ব একটা কাহিনী আছে যেটা অন্যের থেকে আলাদা। কিন্তু প্রত্যেকেই একটা ব্যাপারে সমান, আর সেটা হল এরা ঝরাপাতা; যারা ঝরে পড়ার পর আরও বেশী সজীব ও জীবন্ত লাগে। এদের নিজেদের উৎস গাছের সঙ্গে আর কোন সম্পর্ক থাকে না; এরপর হয় এরা মাটিতে বিলীন হয়ে যাবে অথবা নতুন করে শিকড় বার করে মাটি ফুঁড়ে বেঁচে উঠবে।
ঝরাপাতা মানেই সবসময় বিয়োগান্তক নয়। দুঃখের মধ্যে কিভাবে হাসতে হয় তা ঝরাপাতা শেখায়। ভূমির ওপর শায়িত বিভিন্ন রঙয়ের ঝরাপাতা প্রকৃতির বুকে রঙয়ের মেলা সাজিয়ে তোলে যা অতীব চিত্তাকর্ষক হয়। যখন হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা নৃত্য করতে থাকে তখন তাদের সেই আনন্দদান দেখে শিখতে হয় কিভাবে অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়া যায়; কিভাবে সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নতুন শুরু করা যায়, উৎস থেকে ঝরে গিয়েও পরিণতিতে আবার বেঁচে ওঠা যায়।
ঋতুপর্ণা বসাক