অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ এই তিনটি নাম আমাদের জীবনে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে কারণ এদের মধ্যে দিয়েই জীবন এগিয়ে চলে। জীবনস্রোতে তিনজনেরই সমান ভূমিকা রয়েছে, কেউ বেশি বা কেউ কম নয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনজনেই নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে চলে। কে কতটা কাজ করে সেটা একটা আলোচনার বিষয়। তাই আজ একটু এদের সুখদুঃখের কথাই বলা যাক।
অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে সবথেকে বেশী পরিশ্রম মনে হয় বর্তমানকেই করতে হয়। একদিকে অতীতের কোন কিছু হারানোর আফসোস যে কেন হল বা পাওয়ারও আফসোস যে কেন সেটা বারবার হয় না এই ভাবনায় চলে যায়। অন্যদিকে ভবিষ্যতে কি হবে সেই দুশ্চিন্তায় বাকী সময়টা কাটিয়ে দেয়। বর্তমানের নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? সে তো অন্যদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, নিজের দিকে তাকানোর তার অবকাশ নেই। সবাই তো বর্তমানে মুহূর্তে বাঁচা ভুলেই গেছে। 'কি হচ্ছে' সেটা উপলব্ধি না করে 'কি হয়েছে' বা 'কি হবে' তাই নিয়েই সময় পার করে যাচ্ছে।
অতীত সে তো দিব্যি আছে, শুধু ইতিহাস বানায়। কবে কি হয়েছে শুধু সেই নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে যায় আর তার ওপর নিজের বক্তব্য দিয়ে যায়। সে যখন বর্তমান ছিল সেসময় তাকে নিয়ে তার ভাবার সময় ছিল না, কিন্তু যেই অতীত হল তাকে নিয়ে কি বিশাল বিচার বিশ্লেষণ শুরু করে দেয়। তার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়বস্তু চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নিজের নিজের অভিমত দিতে ব্যস্ত থাকে। অতীত থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেওয়া দরকার কিন্তু সেটাকে ধরে থাকলে কি করে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে কাজে লাগানোই আসল উদ্দেশ্য হওয়া দরকার।
এবার ভবিষ্যতের দিকে তাকানো যাক। তার কথা আর কি বলা যায়, তার সব কাজ তো অন্যরা করে দেয়। সবাই শুধু ভবিষ্যতে কি হবে এই নিয়েই চিন্তা করে যাচ্ছে। সবাই যদি ভবিষ্যৎকে নিয়ে এতো চিন্তা করে তাহলে ভবিষ্যৎ কি করবে? তারও তো কিছু কাজ আছে না কি? সে কি ঘুমাবে? তাকে তো তার কাজটা করার সুযোগ দিতে হবে আর তার জন্য তো সেই সময়ের অপেক্ষা করতে হবে কারণ ভবিষ্যতের জন্য নিয়তি ওই সময়টাই নির্দিষ্ট করে রেখেছে যেটা এখন করা সম্ভব নয়। তার কাজটা তো তাকে করতে দিতে হবে। তা না হলে সে আছে কেন, তার মানে তার প্রয়োজন আছে। তাই তার কাজটা সে করলেই বেশী ভালো হবে।
কথায় বলে 'ভূত ভবিষ্যৎ'; তাহলে বর্তমানকে কি বলা যায় - কিম্ভুত না কি অদ্ভুত? অদ্ভুতটাই ঠিক আছে কারণ বর্তমানের তো কোন নিশ্চয়তা নেই। সে তো প্রতি মুহূর্তে রং পাল্টায়। হঠাৎ করে 24/11 হয়ে গেল, ভূমিকম্প হয়ে গেল, যুদ্ধ লেগে গেল বা হয়তো হঠাৎ করেই কোন ভালো বা খারাপ কিছু জীবনে ঘটে গেল। বর্তমান নিজেই জানে না এই মুহূর্তে কি ঘটতে চলেছে। কিন্তু বর্তমানকে নিয়েই সব কাজ করতে হয়। যাই হোক না কেন চমৎকার বা রোমহর্ষক সবকিছু নিয়েই এগোতে হয়। তাই অদ্ভুতটাই বর্তমানের জন্য একদম যথাযথ আখ্যা।
ভূত অর্থাৎ অতীত হল যা ইতিমধ্যে ঘটে গেছে, তার ওপর কোন কাজ করা যাবে না এবং তাকে নিয়ে আর ভেবে লাভ নেই কিন্তু তবুও তাকে নিয়ে শুধু বিচার বিশ্লেষণ হয়ে যাচ্ছে। আর ভবিষ্যৎ যাকে কেউ দেখেনি, কিছু জানে না, যেখানে তার ওপরও কোন কাজ হবে না, তাকে নিয়ে সর্বক্ষণ চিন্তা করে যাচ্ছে। তাই কেউ না তো অতীত থেকে বেরোতে পারছে না ভবিষ্যৎকে ছাড়তে পারছে। আর এই দুজনের মাঝখানে পড়ে বর্তমানের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যাচ্ছে। সে সবথেকে বেশি উপেক্ষিত হচ্ছে। অতীতকে আমরা স্মৃতিতে মনে করি আর ভবিষ্যৎকে কল্পনায়; যেটা সত্যিকারের আমরা উপলব্ধি করি সেটা হল বর্তমান। আর এই বর্তমানই সেই ভবিষ্যৎ যার এতদিন অপেক্ষা ছিল এবং এই বর্তমানই কাল সেই অতীত হয়ে যাবে যাকে স্মৃতির পাতায় মনে পড়বে। সবাই বর্তমানের সঙ্গে থেকে তাকে যত্ন না করে বাকী দুজনকে গুরুত্ব দিয়ে জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। এটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না কারণ এতে সবারই স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। বর্তমানও তো কিছু আশা করে। কিছুটা যত্ন, কিছুটা ভালোবাসা, কিছুটা মনোযোগ যেগুলো বাকিদের দেওয়া হচ্ছে এগুলো তো বর্তমানও চায় সবার থেকে আর এই চাওয়াতে কোন অন্যায় নেই। এটা তার ন্যায্য পাওনা যেটাকে কোনভাবেই ত্যাজ্য করা যায় না।
একদিক দিয়ে দেখলে অতীত হল আফসোস, বর্তমান লড়াই আর ভবিষ্যৎ উৎকণ্ঠা। আবার অন্যদিক দিয়ে দেখলে অতীত হল শিক্ষা, বর্তমান উপহার আর ভবিষ্যৎ প্রেরণা। আর এই তিনজনের মেলবন্ধনই হল জীবন যেখানে তিনজনের মধ্যে কোন একজনকেও বাদ দেওয়া যায় না। জীবনে তিনজনেরই সমান গুরুত্ব আছে, তাই তাদের নির্বাচন করা হয়েছে এবং তাদের জন্য কাজও নির্দিষ্ট করা আছে। কোন একজন বেশী কাজ করে গুরুত্ব অন্যরা পেলে সেটা তো ঠিক নয়। অতীত আমরা বদলাতে পারবো না আর ভবিষ্যৎ আমরা জানি না কিন্তু বর্তমানটা আমাদের হাতে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা চলে গেলে ফেরানো অসম্ভব। তাই অতীতকে অতীতেই রেখে তার থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং ভবিষ্যৎকে তার কাজ করতে দিয়ে যদি সবাই বর্তমানে বদ্ধপরিকর হয়, তার দিকে নজর দেয় তবে কারও ওপরই বেশী চাপ পড়ে না, সবাই নিজের জন্য নির্দিষ্ট করা কাজ সঠিক ভাবে পালন করতে পারে। তাতে সবারই সমান গুরুত্ব প্রাধান্য পায়, আর এতে জীবনে সাম্যতা বজায় থাকে।
ড: ঋতুপর্ণা বসাক

👏👏👏👏👏👌👌👌👌
ReplyDelete🙏😊
DeleteThikii bolechen ma'am... Bortoman vlo kore na bachle otit ba bhobisyat kichu vlo hobe na
ReplyDeletethank you😊
Delete