সময় এগোতে থাকে, কাছের মানুষ দূরে যেতে থাকে। সময়, দূরত্ব, পরিবেশ, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে কখন যে দূরত্ব বাড়াতে থাকে আমরা বুঝতেই পারি না। একই সময়ে একজনের জীবনে আনন্দ এবং অন্য জনের জীবনে দুঃখ নিঃশব্দে সেই দূরত্ব বাড়িয়ে চলে। একজনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই আর অন্যদিকে আরেকজনের অনুকূলে আনন্দে ভেসে যাওয়া, একদিকে একজনের সফলতা এবং অন্যদিকে আরেকজনের বিফলতা একই সময়ে প্রকাশ দূরত্বকে ইন্ধন যোগাতে থাকে। আবার কখনও কখনও একই সময়ে দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন লড়াই করে যাচ্ছে যা অপরজন জানতেও পারে না কারণ লড়াইটা তো সবাইকে নিজেকেই লড়তে হয়, তার হয়ে অন্য কেউ লড়তে পারে না। আসলে দুজনেই নিজেদের লড়াইয়ে এতটাই জড়িয়ে যায় যে অন্যজনকে খবর দিতে পারে না বা অন্য কারও খোঁজ নেওয়ার অবকাশ পায় না। প্রিয়জনেরা কখন একে অপরের কাছে শুধু প্রয়োজন বা ধীরে ধীরে নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায় কেউ বুঝতেও পারে না।
কখনও পরিবেশ, পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিজেরাও দায়ী হই। বিপদের সময় অনেকক্ষেত্রে এটা হয় যে অন্যকে জানালে তারা হয়তো সহানুভূতি দেখায়, কিন্তু এগিয়ে আসে না। কোন ক্ষেত্রে কেউ হয়তো অনেক দূরে আছে, তাকে জানিয়ে বিব্রত করতে ইচ্ছে করে না। আবার অনেকে আনন্দের সময় পাশে থাকে কিন্তু দুঃখের ভাগীদার হতে চায় না; কারণ দুঃখকে কেউই ভালোবাসে না। সবাই সুখে আনন্দে থাকতে চায়। তাই এই একপেশে মানসিকতার জন্য দূরত্বটা আরও বেড়ে যায়।
দূরত্বের এই বাহ্যিকতার সঙ্গে সঙ্গে অন্তরের বা মনের দূরত্ব টাও বেড়ে যায়। অদৃশ্য এক দূরত্ব নিঃশব্দে এমনভাবে কাজ করতে থাকে যাতে দৃশ্যগত সবকিছুর উপস্থিতি আস্তে আস্তে কখন ফিকে হয়ে যায়। আর যখন অনুভব হয় সেই দূরত্বটা, তখন অনেকটা দেরী হয়ে যায় যেটা কমানোটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই মাঝেমধ্যে যদি একে অপরের খোঁজ নিই, নিজেদের বর্তমান সুখ দুঃখ বা সমস্যাগুলো অল্প হলেও একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করি তাহলে একে অপরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং আর তার সঙ্গে প্রিয়জনেরাও নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায় না। এতে দূরত্বটাও কমে আর বাহ্যিক বন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়।
ঋতুপর্ণা বসাক