Sunday, September 6, 2026

মুহূর্ত

 


মুহূর্ত! চোখের পলকে বেরিয়ে যায়। সবাই ছুটছে, যার ফলে এই মুহূর্তগুলো কোনোভাবেই আর উপলব্ধি হচ্ছে না। কোথাও ভালো কিছু দেখলে সেটাকে উপভোগ না করে সবাই ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেউ বুঝতেই চায় না যে কিছু কিছু মুহূর্ত মনের খাঁচায় বন্দী হওয়ার জন্য সৃষ্টি হয়, ক্যামেরা বা মোবাইল বন্দী হওয়ার জন্য নয়। 

সব একসাথে করতে হবে, একসাথে লাগবে, তাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে চলেছে। কিন্তু যতই চেষ্টা করা যাক না কেন কিছু না কিছু তো হাত থেকে বেরিয়েই যাচ্ছে, একসাথে সব হয় না, হওয়া সম্ভব নয়। সময়কে ধরে রাখা যায় না, কিন্তু সেই মুহূর্তের অনুভূতিটা মনের কোনে যত্ন করে রেখে দিতে হয়, যা চিরকাল থেকে যায়। সব শুধু বাইরে থেকে দেখা, ভেতরে ঢুকে তার গভীরতা উপলব্ধির সময় কোথায় কারও? কত অল্প সময়ে কটা কাজ করা হল সেই হিসাব মেলাতে সবাই ব্যস্ত। কিন্তু কটা কাজ কত গভীরতা দিয়ে বুঝে করা হল বা কতটা গভীর জ্ঞান অর্জন করা হল সেগুলোর কোনও গুরুত্ব নেই।

মুহূর্তের বৈশিষ্ট্যই হল যে সে ক্ষনিকের অতিথি। এই এল তো এই চলে গেল। যখন সে এল সেই মুহূর্তটাকে উপলব্ধি না করে পরের মুহূর্তে কি করা যায় বা আগের মুহূর্তে কি করা হয়েছে সেই নিয়ে ভাবনা চলছে। এটা কেউ ভাবে না যে এই মুহূর্তটা কত প্রচেষ্টার পরে এসেছে, তাকে অনুভব করা দরকার, তার সঙ্গে সময় কাটানো দরকার। কিন্তু সবাই পরের আর আগের মুহূর্তের কথা এতো ভেবে যায়, যে এই মুহূর্তটা কখন হারিয়ে যায়, কেউ টেরও পায় না। যখন অনুভব হয় তখন আফসোস ছাড়া আর কিছুই থাকে না। তাই যখন মুহূর্তটা এল তাকে অনুভব করে উপভোগ করাটাই অনেক বেশী সঠিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। 

এটা ঠিক যে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সবাই ছুটে চলেছে। কিন্তু জীবনটা তখনই অর্থবহুল হয় যখন অনুভব হয় যে একই মুহূর্ত দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না। তাই কখনও কখনও জীবনের জন্য, নিজের ভালো থাকার জন্য তাড়াহুড়ো না করে আস্তে চলে বা একটু থেমে মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করতে হয়

ঋতুপর্ণা বসাক

Thursday, May 28, 2026

গণ্ডীর ঘরে বাইরে

 


মানুষ যুগের সঙ্গে সঙ্গে বড্ড বেশী আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। শুধু নিজের, নিজের পরিবার, নিজের জীবন, নিজের পেশা, নিজের সুখ এইগুলোই প্রত্যেকের জীবনের মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নিজের সবকিছু নিয়ে গণ্ডী তৈরী করে তার মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছে। অন্যের চিন্তা মনেও আসে না। শুধু নিজের সব ঠিক, সব সুরক্ষিত থাকলেই হল, বাইরের কার কি হল সেই নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে যে বাইরে যদি আগুণ লাগে তার আঁচ একসময় ঘরেও এসে লাগেবাইরেটা যদি ঠিক না থাকে তবে ঘরের ভেতরের পরিবেশও আস্তে আস্তে বেঠিক হয়ে যায়। 

প্রতিনিয়ত জীবন সংগ্রামের লড়াই, বাস্তবের কঠিনতা, প্রতিমুহূর্তের প্রতিযোগিতা মানুষকে কোথাও যন্ত্রে পরিণত করছে যার মধ্যে আবেগ, অনুভূতি সবই আছে কিন্তু তার অনুভব বা প্রকাশ সবটাই ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সবাই নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত। আগে নিজে যদি বাঁচে তবে তো অন্যের কথা ভাববে। জীবন প্রতিমুহূর্তে একটা করে লক্ষ্য বা টার্গেট দিয়ে যাচ্ছে আর সেটা পূরণ করতে করতেই সময় চলে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণের দৌড়ে যেখানে নিজেকেই ভুলে যায়, নিজের চাওয়া পাওয়ার কথা মনেও আসে না সেখানে অন্যের কথা ভাবার সময় কোথায়? কিন্তু এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে এই টার্গেটগুলো পূরণ করতে গেলে অন্যের সাহায্যের দরকার হয়, যেটা ঘরের সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকেও আসে। তাই বাইরে সাহায্য না করলে বা বাইরের সাহায্য না পেলে ঘরের পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগে না।

একা কেউই বাঁচতে পারে না। কারও না কারও সাহচর্য লাগেই। বাইরের জগতে পা না রাখলে নিজের গণ্ডীর মধ্যেই কূপমন্ডুক হয়ে থেকে যায়। সবার সঙ্গে না মিশলে জ্ঞানের ভান্ডার, অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়বে কি করে? একা সব কাজ করা সম্ভব হয় না, অন্যের দরকার পড়েই। সেক্ষেত্রে নিজের গণ্ডীর মধ্যে বসে থাকলে বাইরের সাহায্য কি করে আসবে? আর গণ্ডীর বাইরে না বেরোলে অন্যের খোঁজ খবর জানা যাবে কি করে? তাদের সাহায্য করাই বা কি করে সম্ভব হবে?

ল্যাম্পপোষ্টের আলোতে রাস্তার কিছু অংশটা দেখা যায়, বাকিটা অদৃশ্য থাকে। তার মানে তো এই নয় যে ওই আলোর বাইরে দৃষ্টির অগোচরে রাস্তাটাই শেষ হয়ে গেছে, শুধু আলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাকী রাস্তাটুকুও আছে, সেটা শুধু খুঁজে নিতে হয়। ঠিক তেমনি মানুষ নিজের চারপাশের গণ্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ জীবনটাকেই শুধু দেখছে। তার বাইরেও যে একটা জগৎ আছে সেটা ভুলেই যাচ্ছে। তাকে খোঁজার আর কোনো চেষ্টাই করছে না। তাকে খুঁজতে গেলে নিজের গণ্ডী পাড় করে বেরিয়ে আসতে হবে, তবেই বিশ্বসংসার নজরে আসবে। নিজের কথা ভাবা ভুল নয়, তবে নিজের সঙ্গে সবার জন্য না হলেও কিছু জনের কথা একটু ভাবাই যায়। এভাবে একে অন্যের জন্য যদি একটু করে ভাবতে শুরু করে, একজনের দরকারে অন্যজন সাহায্য করতে এগিয়ে যায় তবে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা, সম্মানের জন্ম নেয় যা একে অপরের মধ্যে হৃদয়ের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে এবং তাদেরকে অন্যের সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিজেদেরকেও আরও ভরসা করতে, ভালোবাসতে শেখায়

ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, March 22, 2026

খুশীর ঠিকানা

 

সুখ, খুশী, আনন্দ এরা কোথায় থাকে? এই অনুভূতিগুলোকে কোথায় পাওয়া যায়? সুখ, খুশী এই শব্দগুলোর সঙ্গে সঙ্গে অনুভূতিগুলোও যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়। এগুলোর ঠিকানা কেউ বলতে পারে না। এগুলো শুধু কল্পনা করা যায়, বাস্তবে খোঁজা অনর্থক। কাউকে বলতে শোনা যায় না যে সে সুখে আছে, আনন্দে আছে। নিজেদের চাহিদা, লোভ এসব মেটাতে গিয়ে, প্রতিনিয়ত ইঁদুর দৌড়ে জিততে গিয়ে মানুষ ভুলেই গেছে কি ভাবে সুখে থাকতে হয়, খুশী হতে হয়। 

মানুষ সুখ, খুশী এদেরকে বাইরে খুঁজে চলেছে। জীবনে সুখী হওয়ার জন্য, খুশী থাকার জন্য চারিদিকে ছুটে বেড়াচ্ছে। তারা ভাবছে এগুলো অন্য কোথাও আছে, তাই তাদেরকে নিজেদের জীবনে আনার জন্য ভিত্তিহীন সব প্রতিযোগিতায় নাম লেখাচ্ছে। 

মানুষ সুখের পেছনে ছুটে চলে কিন্তু আসল সুখ কি সেটা বোঝার চেষ্টা করে না। সুখ, খুশী, আনন্দ এগুলো খুঁজে নিতে হয়। খুশী থাকা, আনন্দ পাওয়া, সুখী হওয়াটা একটা পদ্ধতি। অনেকের কিছু না থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের সুখী মনে করে কারণ তারা জানে তাদের যা আছে আরও অনেকের সেটা নেই। তাই তারা সেটা নিয়েই আনন্দে থাকে, খুশী থাকে। আবার অনেকে আছে যারা সব থেকেও খুশী নয় কারণ তারা সবসময় এটাই দেখে তাদের কি নেই আর অন্যের কি আছে। তারা জানেই না কিভাবে খুশী থাকতে হয়, কিভাবে অন্যকে খুশী রাখতে হয়। 'আরও চাই' এই মনোবৃত্তির কারণেই তারা না তো নিজেরা খুশী হতে পারে না অন্যকে খুশী দিতে পারে।

জীবনে চলার পথে অন্যের সম্পত্তির দিকে না তাকিয়ে নিজেদের যা আছে সেদিকে মনোযোগ দিলে বোঝা যায় আমরা কতটা সৌভাগ্য পেয়েছি যেটা অনেকেই হয়তো পায়নি। আর সেটা নিয়ে খুশী থাকতে শিখলে খুব সহজেই খুশী, আনন্দ, সুখ এদের চিনতে পারা যায় এবং নিজেদের জীবনে ধরে রাখা যায়। তখন আর এদের ঠিকানা অন্য কোথাও খুঁজতে যেতে হয় না, নিজেদের মধ্যেই এদের খুঁজে পাওয়া যায়। আমরা নিজেরাই তখন এদের ঠিকানা হয়ে উঠি। খুশী থাকা এবং খুশী রাখা এটাই তো আসল কাজ


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, January 25, 2026

নিঃশব্দ ঘাতক

 


সময় এগোতে থাকে, কাছের মানুষ দূরে যেতে থাকে। সময়, দূরত্ব, পরিবেশ, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে কখন যে দূরত্ব বাড়াতে থাকে আমরা বুঝতেই পারি না। একই সময়ে একজনের জীবনে আনন্দ এবং অন্য জনের জীবনে দুঃখ নিঃশব্দে সেই দূরত্ব বাড়িয়ে চলে। একজনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই আর অন্যদিকে আরেকজনের অনুকূলে আনন্দে ভেসে যাওয়া, একদিকে একজনের সফলতা এবং অন্যদিকে আরেকজনের বিফলতা একই সময়ে প্রকাশ দূরত্বকে ইন্ধন যোগাতে থাকে। আবার কখনও কখনও একই সময়ে দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন লড়াই করে যাচ্ছে যা অপরজন জানতেও পারে না কারণ লড়াইটা তো সবাইকে নিজেকেই লড়তে হয়, তার হয়ে অন্য কেউ লড়তে পারে না। আসলে  দুজনেই নিজেদের লড়াইয়ে এতটাই জড়িয়ে যায় যে অন্যজনকে খবর দিতে পারে না বা অন্য কারও খোঁজ নেওয়ার অবকাশ পায় না। প্রিয়জনেরা কখন একে অপরের কাছে শুধু প্রয়োজন বা ধীরে ধীরে নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায় কেউ বুঝতেও পারে না। 

কখনও পরিবেশ, পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিজেরাও দায়ী হই। বিপদের সময় অনেকক্ষেত্রে এটা হয় যে অন্যকে জানালে তারা হয়তো সহানুভূতি দেখায়, কিন্তু এগিয়ে আসে না। কোন ক্ষেত্রে কেউ হয়তো অনেক দূরে আছে, তাকে জানিয়ে বিব্রত করতে ইচ্ছে করে না। আবার অনেকে আনন্দের সময় পাশে থাকে কিন্তু দুঃখের ভাগীদার হতে চায় না; কারণ দুঃখকে কেউই ভালোবাসে না। সবাই সুখে আনন্দে থাকতে চায়। তাই এই একপেশে মানসিকতার জন্য দূরত্বটা আরও বেড়ে যায়

দূরত্বের এই বাহ্যিকতার সঙ্গে সঙ্গে অন্তরের বা মনের দূরত্ব টাও বেড়ে যায়। অদৃশ্য এক দূরত্ব নিঃশব্দে এমনভাবে কাজ করতে থাকে যাতে দৃশ্যগত সবকিছুর উপস্থিতি আস্তে আস্তে কখন ফিকে হয়ে যায়। আর যখন অনুভব হয় সেই দূরত্বটা, তখন অনেকটা দেরী হয়ে যায় যেটা কমানোটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই মাঝেমধ্যে যদি একে অপরের খোঁজ নিই, নিজেদের বর্তমান সুখ দুঃখ বা সমস্যাগুলো অল্প হলেও একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করি তাহলে একে অপরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং আর তার সঙ্গে প্রিয়জনেরাও নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায় না। এতে দূরত্বটাও কমে আর বাহ্যিক বন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়


ঋতুপর্ণা বসাক

Tuesday, December 30, 2025

দুঃখের দুঃখ

 

দুঃখ নামটা শুনলেই মনে হয় কতক্ষণে এর থেকে পালানো যায়, সে যেন ভুল করেও কাছে না আসে। দুঃখের মধ্যেই একটা দুঃখ লুকিয়ে আছে যে সবাই তার থেকে পালাতে চায়, তাকে তাড়াতে চায়। তাকে কেউ অভ্যার্থনা জানায় না। যদি সে কারও জীবনে ঢুকে যায় তাকে কতক্ষণে তাড়ানো যায় সেই চিন্তাই সবাই করে যায়। কিন্তু সে যে কিছু বলতে চায়, তারও যে কিছু বক্তব্য থাকতে পারে সেটা কেউই ভাবে না বা বলা ভালো ভাবতে চায় না। শুধু তাকে তাড়াতে হবে এটাই প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

দুঃখ কার জীবনে কি দুঃখ বয়ে এনেছে সবাই শুধু সেই কথা শোনাতে ব্যস্ত। কিন্তু দুঃখের জীবনে কিছু দুঃখ সেটা কেউই শুনতে রাজী নয়। তারও যে কোন দুঃখ থাকতে পারে সেটা কেউ ভাবতেই পারে না। সবাই এটাই ভাববে “দুঃখের আবার কি দুঃখ? তার তো অন্যকে দুঃখ দেওয়াই কাজ।” কিন্তু প্রকৃত ঘটনা তো তা নয়। দুঃখের কারও জীবনে প্রবেশ করা মানে সেখানে কোন সমস্যা তৈরী হয়েছে যেটাকে ঠিক করতে হবে। অথচ সবাই সেই বার্তাকে উপেক্ষা করে তাকে শাপ শাপান্ত করে চলে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে দুঃখ প্রকৃত মানুষ চিনতে শেখায়। দুঃখের সময় বোঝা যায় কে প্রকৃত বন্ধু আর কে শত্রু।

দুঃখের সঙ্গে কথা বললে দেখা যাবে সেই একমাত্র একজন যার জীবনে কোন আনন্দ নেই কারণ তাকে সবাই অবজ্ঞা করে, অবহেলা করে, ঘৃণা করে, কেউ তাকে ভালোবাসে না। সবার জীবনে সুখ দুঃখ মিলিয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখের জীবনে শুধুই দুঃখ। তাকে যে কেউ পছন্দ করে না, সবাই তার থেকে দূরে থাকতে চায়, তাকে সবার থেকে দূরে রাখতে চায়। তার মনের কথা শোনার যে কেউ নেই। কিন্তু দুঃখেরও একটা মন আছে। সেও চায় সবাই তাকে আপন করে নিক, তাকে গ্রহণ করুক, ভালো না বাসতে পারলেও তাকে বুঝতে চেষ্টা করুক। কারণ দুঃখকে যত বুঝতে চেষ্টা করা যাবে তত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধানের রাস্তা বেরোবো।  

দুঃখ আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে সেটা আমরা মানি বা না মানি। দুঃখ লড়তে শেখায়, মানুষ চিনতে শেখায়, সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। এককথায় দুঃখ একজন অপরিণত মানুষকে বাহ্যিক, মানসিক, সামাজিক, বুদ্ধিগত সব দিক থেকে পরিণত করে তোলে। যে মানুষটা কাল অবধি অন্যের ওপর নির্ভর করতো সে আজ দুঃখের মোকাবিলা করার জন্য নিজে নিজে সব করছে। কারণ তার লড়াইটা তাকেই লড়তে হচ্ছে, অন্য কেউ তার হয়ে লড়ছে না; দুঃখটা তাকেই পেতে হচ্ছে, তার হয়ে অন্য কেউ পাচ্ছে না। অন্যেরা তাকে সাহায্য করতে পারে, তার সঙ্গে থাকতে পারে কিন্তু তার লড়াইয়ে শেষ সিদ্ধান্ত তাঁরই হবেতাই দুঃখ হল প্রকৃত শিক্ষক যে জীবনের শিক্ষা দিয়ে মানুষ তৈরী করে। তাই দুঃখের থেকে না পালিয়ে বা তাকে না তাড়িয়ে তাকে গ্রহণ করে যদি তার কথা শোনা যায়, তার আসার কারণ জানা যায় তাহলে হয়তো দুঃখের দুঃখ কমে এবং তার সঙ্গে আমাদের সমস্যার সমাধান হয় কারণ সেতো আমাদের ভেতরেই আছে, বাইরে থেকে তো আর আসে না। তাই দুঃখের প্রতি বাইরে সর্বসমক্ষে সশব্দে প্রশংসার বদলে অন্তরে নিঃশব্দে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন তো করতেই পারি

ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, November 30, 2025

ঝরাপাতা

 

'ঝরাপাতা' শব্দটা শুনলে কেমন একটা বিয়োগ ব্যথা অনুভব হয়, একটা মন খারাপের রেশ আসে। একটা সতেজ সবুজ পাতা আস্তে আস্তে করে শুকিয়ে গিয়ে ঝরাপাতায় পরিণত হয়। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধরিত্রীর বুকে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু এটাই কি শেষ? সবসময় বোধহয় না

কখনও কখনও কিছু কিছু পাতার মধ্যে থেকে শিকড় বেরিয়ে নতুন গাছেরও জন্ম হয়। সেটা হয়তো অনেক বড় গাছ হয় না, কিন্তু গাছটা সতেজ ও সবুজ থাকে। সবকিছু না হলেও ওই শিকড়টাই তখন বাঁচার সম্বল হয়ে দাঁড়ায় যেটাকে আঁকড়ে ধরে গাছটা নতুন করে বেঁচে ওঠে। ঝরে পড়ার যে বিয়োগ ব্যথা তা নতুন উৎপত্তির আনন্দের সঙ্গে অনেকটাই লঘু হয়ে যায়। 

প্রতিটা ঝরাপাতা আকৃতি, প্রকৃতি, রং, রূপ বিশেষে একে অপরের থেকে আলাদা হয়; প্রত্যেকের নিজস্ব একটা কাহিনী আছে যেটা অন্যের থেকে আলাদা। কিন্তু প্রত্যেকেই একটা ব্যাপারে সমান, আর সেটা হল এরা ঝরাপাতা; যারা ঝরে পড়ার পর আরও বেশী সজীব ও জীবন্ত লাগে। এদের নিজেদের উৎস গাছের সঙ্গে আর কোন সম্পর্ক থাকে না; এরপর হয় এরা মাটিতে বিলীন হয়ে যাবে অথবা নতুন করে শিকড় বার করে মাটি ফুঁড়ে বেঁচে উঠবে।

ঝরাপাতা মানেই সবসময় বিয়োগান্তক নয়। দুঃখের মধ্যে কিভাবে হাসতে হয় তা ঝরাপাতা শেখায়। ভূমির ওপর শায়িত বিভিন্ন রঙয়ের ঝরাপাতা প্রকৃতির বুকে রঙয়ের মেলা সাজিয়ে তোলে যা অতীব চিত্তাকর্ষক হয়। যখন হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা নৃত্য করতে থাকে তখন তাদের সেই আনন্দদান দেখে শিখতে হয় কিভাবে অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়া যায়; কিভাবে সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নতুন শুরু করা যায়, উৎস থেকে ঝরে গিয়েও পরিণতিতে আবার বেঁচে ওঠা যায়


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, October 26, 2025

সময়ের সময়

 


কালের নিয়মে সময় তার গতিপথে এগিয়ে চলে। তার চাবিকাঠিতে সর্বদা দম দেওয়া থাকে। সেই অনুযায়ী সে চলতে থাকে। সে কারও জন্য বা কারও কথায় থেমে থাকে না বা বলা যায় থামতে পারে না। একবার যে সময় চলে যায় তা হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও ফিরে আসে না। সময় হল একমুখী, শুধু এগিয়ে যায় পেছনে যেতে পারে না। এটাই তার নিয়তি।

সময় কারও পরোয়া করে না, আবার সে বেপরোয়াও নয়। সময়কে কেউ বেঁধে রাখতে পারে না। সে নিজে বাঁধন ছাড়া কিন্তু গোটা বিশ্বকে এক অদৃশ্য বাঁধনে বেঁধে চালনা করে যাচ্ছে। কি অদ্ভুত ক্ষমতা তার তিনটে কাঁটার যাদের কাছে সমগ্র বিশ্ব বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য। স্বয়ং ঈশ্বরও সময়কে উপেক্ষা করতে পারেন না বা আটকাতে পারেন না। সেই ক্ষমতা তাঁরও নেই। সবাই সময়ের গন্ডিতে আবদ্ধ। সময়কে এড়িয়ে কেউ নিজের মর্জি মত চলতে পারে না। আর কেউ সেই ধৃষ্টতা দেখালে সময় তাকে তার জায়গা বুঝিয়ে দেয়।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে চলে মানুষের জীবন। সময় কিভাবে বদলায় কেউ বলতে পারে না। আজ যা জীবন কাল তা বিপরীত হতেই পারে। আবার আজ যা জীবনে নেই কাল তা হতেই পারে। আসলেই সময়ের হাতে সবাই বন্দী, যখন তখন পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কখনও সেটা প্রবল ঘটনাবহুল হয় আবার কখনও সাধারণ গতিতে চলে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে উপলব্ধি করা যায় প্রতিটা ঘটনা একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তার জন্য নির্ধারিত একটা নির্দিষ্ট সময়েই ঘটছে

কখনও কখনও সময়কে ভরসা করতে নেই, কখন বাজি পাল্টে দেয় কেউ বলতে পারে না। আবার কোন ক্ষেত্রে সময়ের ওপরেই ভরসা রাখতে হয় যে ঠিক সময়ে সব ঠিক করে দেয়। কখনও সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকতে নেই। সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকলে সেই সঠিক সময়টাকে কখনই ধরা যায় না। তাই উচিৎ হল অপেক্ষা না করে ওই সঠিক সময়টাকে নিয়ে আসার জন্য নিজের বা সবার সুবিধার্থে নিজেরই কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাতে তাকে সঠিক সময় বলে আখ্যায়িত করা যায়।

সময় হচ্ছে সবকিছু। সময় সবারই আসে। কিন্তু সময় কারও হাতের পুতুল নয় বা কারও কথায় সে উঠবোস করে না। সে নিজের মর্জির মালিক। সময়ের যখন সময় হয় তখন সে সময়মত সময় নিয়ে সঠিক ভাবে সঠিক কারণে সব সঠিক করে। বলাবাহুল্য, ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ভুল কাজ করার থেকে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সঠিক ভাবে সঠিক কাজ করা অনেক বেশী সঠিক সিদ্ধান্ত।


ঋতুপর্ণা বসাক

মুহূর্ত

  মুহূর্ত ! চোখের পলকে বেরিয়ে যায়। সবাই ছুটছে, যার ফলে এই মুহূর্তগুলো কোনোভাবেই আর উপলব্ধি হচ্ছে না। কোথাও ভালো কিছু দেখলে সেটাকে উপভোগ না ক...

Popular Posts