মুহূর্ত! চোখের পলকে বেরিয়ে যায়। সবাই ছুটছে, যার ফলে এই মুহূর্তগুলো কোনোভাবেই আর উপলব্ধি হচ্ছে না। কোথাও ভালো কিছু দেখলে সেটাকে উপভোগ না করে সবাই ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেউ বুঝতেই চায় না যে কিছু কিছু মুহূর্ত মনের খাঁচায় বন্দী হওয়ার জন্য সৃষ্টি হয়, ক্যামেরা বা মোবাইল বন্দী হওয়ার জন্য নয়।
সব একসাথে করতে হবে, একসাথে লাগবে, তাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে চলেছে। কিন্তু যতই চেষ্টা করা যাক না কেন কিছু না কিছু তো হাত থেকে বেরিয়েই যাচ্ছে, একসাথে সব হয় না, হওয়া সম্ভব নয়। সময়কে ধরে রাখা যায় না, কিন্তু সেই মুহূর্তের অনুভূতিটা মনের কোনে যত্ন করে রেখে দিতে হয়, যা চিরকাল থেকে যায়। সব শুধু বাইরে থেকে দেখা, ভেতরে ঢুকে তার গভীরতা উপলব্ধির সময় কোথায় কারও? কত অল্প সময়ে কটা কাজ করা হল সেই হিসাব মেলাতে সবাই ব্যস্ত। কিন্তু কটা কাজ কত গভীরতা দিয়ে বুঝে করা হল বা কতটা গভীর জ্ঞান অর্জন করা হল সেগুলোর কোনও গুরুত্ব নেই।
মুহূর্তের বৈশিষ্ট্যই হল যে সে ক্ষনিকের অতিথি। এই এল তো এই চলে গেল। যখন সে এল সেই মুহূর্তটাকে উপলব্ধি না করে পরের মুহূর্তে কি করা যায় বা আগের মুহূর্তে কি করা হয়েছে সেই নিয়ে ভাবনা চলছে। এটা কেউ ভাবে না যে এই মুহূর্তটা কত প্রচেষ্টার পরে এসেছে, তাকে অনুভব করা দরকার, তার সঙ্গে সময় কাটানো দরকার। কিন্তু সবাই পরের আর আগের মুহূর্তের কথা এতো ভেবে যায়, যে এই মুহূর্তটা কখন হারিয়ে যায়, কেউ টেরও পায় না। যখন অনুভব হয় তখন আফসোস ছাড়া আর কিছুই থাকে না। তাই যখন মুহূর্তটা এল তাকে অনুভব করে উপভোগ করাটাই অনেক বেশী সঠিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
এটা ঠিক যে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সবাই ছুটে চলেছে। কিন্তু জীবনটা তখনই অর্থবহুল হয় যখন অনুভব হয় যে একই মুহূর্ত দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না। তাই কখনও কখনও জীবনের জন্য, নিজের ভালো থাকার জন্য তাড়াহুড়ো না করে আস্তে চলে বা একটু থেমে মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করতে হয়।
ঋতুপর্ণা বসাক