দুঃখ নামটা শুনলেই মনে হয় কতক্ষণে এর থেকে পালানো যায়, সে যেন ভুল করেও কাছে না আসে। দুঃখের মধ্যেই একটা দুঃখ লুকিয়ে আছে যে সবাই তার থেকে পালাতে চায়, তাকে তাড়াতে চায়। তাকে কেউ অভ্যার্থনা জানায় না। যদি সে কারও জীবনে ঢুকে যায় তাকে কতক্ষণে তাড়ানো যায় সেই চিন্তাই সবাই করে যায়। কিন্তু সে যে কিছু বলতে চায়, তারও যে কিছু বক্তব্য থাকতে পারে সেটা কেউই ভাবে না বা বলা ভালো ভাবতে চায় না। শুধু তাকে তাড়াতে হবে এটাই প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
দুঃখ কার জীবনে কি দুঃখ বয়ে এনেছে সবাই শুধু সেই কথা শোনাতে ব্যস্ত। কিন্তু দুঃখের জীবনে কিছু দুঃখ সেটা কেউই শুনতে রাজী নয়। তারও যে কোন দুঃখ থাকতে পারে সেটা কেউ ভাবতেই পারে না। সবাই এটাই ভাববে “দুঃখের আবার কি দুঃখ? তার তো অন্যকে দুঃখ দেওয়াই কাজ।” কিন্তু প্রকৃত ঘটনা তো তা নয়। দুঃখের কারও জীবনে প্রবেশ করা মানে সেখানে কোন সমস্যা তৈরী হয়েছে যেটাকে ঠিক করতে হবে। অথচ সবাই সেই বার্তাকে উপেক্ষা করে তাকে শাপ শাপান্ত করে চলে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে দুঃখ প্রকৃত মানুষ চিনতে শেখায়। দুঃখের সময় বোঝা যায় কে প্রকৃত বন্ধু আর কে শত্রু।
দুঃখের সঙ্গে কথা বললে দেখা যাবে সেই একমাত্র একজন যার জীবনে কোন আনন্দ নেই কারণ তাকে সবাই অবজ্ঞা করে, অবহেলা করে, ঘৃণা করে, কেউ তাকে ভালোবাসে না। সবার জীবনে সুখ দুঃখ মিলিয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখের জীবনে শুধুই দুঃখ। তাকে যে কেউ পছন্দ করে না, সবাই তার থেকে দূরে থাকতে চায়, তাকে সবার থেকে দূরে রাখতে চায়। তার মনের কথা শোনার যে কেউ নেই। কিন্তু দুঃখেরও একটা মন আছে। সেও চায় সবাই তাকে আপন করে নিক, তাকে গ্রহণ করুক, ভালো না বাসতে পারলেও তাকে বুঝতে চেষ্টা করুক। কারণ দুঃখকে যত বুঝতে চেষ্টা করা যাবে তত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধানের রাস্তা বেরোবো।
দুঃখ আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে সেটা আমরা মানি বা না মানি। দুঃখ লড়তে শেখায়, মানুষ চিনতে শেখায়, সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। এককথায় দুঃখ একজন অপরিণত মানুষকে বাহ্যিক, মানসিক, সামাজিক, বুদ্ধিগত সব দিক থেকে পরিণত করে তোলে। যে মানুষটা কাল অবধি অন্যের ওপর নির্ভর করতো সে আজ দুঃখের মোকাবিলা করার জন্য নিজে নিজে সব করছে। কারণ তার লড়াইটা তাকেই লড়তে হচ্ছে, অন্য কেউ তার হয়ে লড়ছে না; দুঃখটা তাকেই পেতে হচ্ছে, তার হয়ে অন্য কেউ পাচ্ছে না। অন্যেরা তাকে সাহায্য করতে পারে, তার সঙ্গে থাকতে পারে কিন্তু তার লড়াইয়ে শেষ সিদ্ধান্ত তাঁরই হবে। তাই দুঃখ হল প্রকৃত শিক্ষক যে জীবনের শিক্ষা দিয়ে মানুষ তৈরী করে। তাই দুঃখের থেকে না পালিয়ে বা তাকে না তাড়িয়ে তাকে গ্রহণ করে যদি তার কথা শোনা যায়, তার আসার কারণ জানা যায় তাহলে হয়তো দুঃখের দুঃখ কমে এবং তার সঙ্গে আমাদের সমস্যার সমাধান হয় কারণ সেতো আমাদের ভেতরেই আছে, বাইরে থেকে তো আর আসে না। তাই দুঃখের প্রতি বাইরে সর্বসমক্ষে সশব্দে প্রশংসার বদলে অন্তরে নিঃশব্দে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন তো করতেই পারি।
ঋতুপর্ণা বসাক
Evabe vebe dekha hoyni kokhono 😌
ReplyDelete😊
Delete