Sunday, March 22, 2026

খুশীর ঠিকানা

 

সুখ, খুশী, আনন্দ এরা কোথায় থাকে? এই অনুভূতিগুলোকে কোথায় পাওয়া যায়? সুখ, খুশী এই শব্দগুলোর সঙ্গে সঙ্গে অনুভূতিগুলোও যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়। এগুলোর ঠিকানা কেউ বলতে পারে না। এগুলো শুধু কল্পনা করা যায়, বাস্তবে খোঁজা অনর্থক। কাউকে বলতে শোনা যায় না যে সে সুখে আছে, আনন্দে আছে। নিজেদের চাহিদা, লোভ এসব মেটাতে গিয়ে, প্রতিনিয়ত ইঁদুর দৌড়ে জিততে গিয়ে মানুষ ভুলেই গেছে কি ভাবে সুখে থাকতে হয়, খুশী হতে হয়। 

মানুষ সুখ, খুশী এদেরকে বাইরে খুঁজে চলেছে। জীবনে সুখী হওয়ার জন্য, খুশী থাকার জন্য চারিদিকে ছুটে বেড়াচ্ছে। তারা ভাবছে এগুলো অন্য কোথাও আছে, তাই তাদেরকে নিজেদের জীবনে আনার জন্য ভিত্তিহীন সব প্রতিযোগিতায় নাম লেখাচ্ছে। 

মানুষ সুখের পেছনে ছুটে চলে কিন্তু আসল সুখ কি সেটা বোঝার চেষ্টা করে না। সুখ, খুশী, আনন্দ এগুলো খুঁজে নিতে হয়। খুশী থাকা, আনন্দ পাওয়া, সুখী হওয়াটা একটা পদ্ধতি। অনেকের কিছু না থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের সুখী মনে করে কারণ তারা জানে তাদের যা আছে আরও অনেকের সেটা নেই। তাই তারা সেটা নিয়েই আনন্দে থাকে, খুশী থাকে। আবার অনেকে আছে যারা সব থেকেও খুশী নয় কারণ তারা সবসময় এটাই দেখে তাদের কি নেই আর অন্যের কি আছে। তারা জানেই না কিভাবে খুশী থাকতে হয়, কিভাবে অন্যকে খুশী রাখতে হয়। 'আরও চাই' এই মনোবৃত্তির কারণেই তারা না তো নিজেরা খুশী হতে পারে না অন্যকে খুশী দিতে পারে।

জীবনে চলার পথে অন্যের সম্পত্তির দিকে না তাকিয়ে নিজেদের যা আছে সেদিকে মনোযোগ দিলে বোঝা যায় আমরা কতটা সৌভাগ্য পেয়েছি যেটা অনেকেই হয়তো পায়নি। আর সেটা নিয়ে খুশী থাকতে শিখলে খুব সহজেই খুশী, আনন্দ, সুখ এদের চিনতে পারা যায় এবং নিজেদের জীবনে ধরে রাখা যায়। তখন আর এদের ঠিকানা অন্য কোথাও খুঁজতে যেতে হয় না, নিজেদের মধ্যেই এদের খুঁজে পাওয়া যায়। আমরা নিজেরাই তখন এদের ঠিকানা হয়ে উঠি। খুশী থাকা এবং খুশী রাখা এটাই তো আসল কাজ


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, January 25, 2026

নিঃশব্দ ঘাতক

 


সময় এগোতে থাকে, কাছের মানুষ দূরে যেতে থাকে। সময়, দূরত্ব, পরিবেশ, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে কখন যে দূরত্ব বাড়াতে থাকে আমরা বুঝতেই পারি না। একই সময়ে একজনের জীবনে আনন্দ এবং অন্য জনের জীবনে দুঃখ নিঃশব্দে সেই দূরত্ব বাড়িয়ে চলে। একজনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই আর অন্যদিকে আরেকজনের অনুকূলে আনন্দে ভেসে যাওয়া, একদিকে একজনের সফলতা এবং অন্যদিকে আরেকজনের বিফলতা একই সময়ে প্রকাশ দূরত্বকে ইন্ধন যোগাতে থাকে। আবার কখনও কখনও একই সময়ে দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন লড়াই করে যাচ্ছে যা অপরজন জানতেও পারে না কারণ লড়াইটা তো সবাইকে নিজেকেই লড়তে হয়, তার হয়ে অন্য কেউ লড়তে পারে না। আসলে  দুজনেই নিজেদের লড়াইয়ে এতটাই জড়িয়ে যায় যে অন্যজনকে খবর দিতে পারে না বা অন্য কারও খোঁজ নেওয়ার অবকাশ পায় না। প্রিয়জনেরা কখন একে অপরের কাছে শুধু প্রয়োজন বা ধীরে ধীরে নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায় কেউ বুঝতেও পারে না। 

কখনও পরিবেশ, পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিজেরাও দায়ী হই। বিপদের সময় অনেকক্ষেত্রে এটা হয় যে অন্যকে জানালে তারা হয়তো সহানুভূতি দেখায়, কিন্তু এগিয়ে আসে না। কোন ক্ষেত্রে কেউ হয়তো অনেক দূরে আছে, তাকে জানিয়ে বিব্রত করতে ইচ্ছে করে না। আবার অনেকে আনন্দের সময় পাশে থাকে কিন্তু দুঃখের ভাগীদার হতে চায় না; কারণ দুঃখকে কেউই ভালোবাসে না। সবাই সুখে আনন্দে থাকতে চায়। তাই এই একপেশে মানসিকতার জন্য দূরত্বটা আরও বেড়ে যায়

দূরত্বের এই বাহ্যিকতার সঙ্গে সঙ্গে অন্তরের বা মনের দূরত্ব টাও বেড়ে যায়। অদৃশ্য এক দূরত্ব নিঃশব্দে এমনভাবে কাজ করতে থাকে যাতে দৃশ্যগত সবকিছুর উপস্থিতি আস্তে আস্তে কখন ফিকে হয়ে যায়। আর যখন অনুভব হয় সেই দূরত্বটা, তখন অনেকটা দেরী হয়ে যায় যেটা কমানোটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই মাঝেমধ্যে যদি একে অপরের খোঁজ নিই, নিজেদের বর্তমান সুখ দুঃখ বা সমস্যাগুলো অল্প হলেও একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করি তাহলে একে অপরকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং আর তার সঙ্গে প্রিয়জনেরাও নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায় না। এতে দূরত্বটাও কমে আর বাহ্যিক বন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়


ঋতুপর্ণা বসাক

খুশীর ঠিকানা

  সুখ, খুশী, আনন্দ এরা কোথায় থাকে? এই অনুভূতিগুলোকে কোথায় পাওয়া যায়? সুখ, খুশী এই শব্দগুলোর সঙ্গে সঙ্গে অনুভূতিগুলোও যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়...

Popular Posts