Tuesday, January 23, 2024

বই মহোৎসব

 




প্রতি বছর বইমেলা ভরপুর প্রানশক্তি, বিপুল জনজোয়ার, নতুন বই আবিষ্কারের সাক্ষ্য বয়ে নিয়ে চলেছে। ছোট বড় মাঝারি সব স্টল, ছোট ছোট পত্রিকার টেবিল, নতুন নতুন বইয়ের প্রকাশ সব মিলিয়ে যেন এক মহোৎসব চলে। 

এ যেন বইয়ের এক মহাসমুদ্র যাকে যত অন্বেষণ করা যায় ততই নতুন নতুন সব রত্ন বই আবিষ্কার হয়। প্রতিটা বইয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, নিজস্ব নতুনত্ব রয়েছে যার বিষয়, রং, গন্ধ, ওজন, মাপ, ছবি সব একে অপরের থেকে আলাদা। 

কোথাও অনেক বই বিক্রীর খুশি আবার কোথাও কম বিক্রীর মনখারাপ, কোথাও প্রবল উত্তেজনা আবার কোথাও বইমেলার প্রতি এক তীব্র আসক্তি। সব মিলিয়ে বইমেলাকে পরিপূর্ণ করে তোলে যেখানে ক্রেতা, বিক্রেতা, লেখক, পাঠক, এবং অবশ্যই বই সবার নিজ নিজ নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

বইমেলা এমন জায়গা যেখানে অনেক নতুন প্রজন্মের লেখক, চিত্রকর, কবির প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে। অনেকের আশার জায়গা বইমেলা কারণ যত বই বিক্রী হবে তত লেখক, কবি, চিত্রকর, সাহিত্যিকদের নাম হবে, প্রকাশকদের লাভ হবে। লেখকমহলে পরিচিতি হবে, কবিতা, চিত্র, সাহিত্যের জগতে জনপ্রিয়তা বাড়বে।

বইপ্রেমীদের ভালোবাসার জায়গা হল বইমেলা যেখানে অসংখ্য বইয়ের স্টল একসাথে দেখতে পাওয়া যায়, দূরদূরান্ত থেকে প্রকাশকরা বই নিয়ে আসে। একদিকে যেমন স্থানীয় প্রকাশকরা তাদের স্টল সাজায়, তেমনি অন্যদিকে দেশ বিদেশ থেকে আসা বিখ্যাত প্রকাশকরা তাদের বইয়ের পসরা সাজিয়ে তোলে।

বইমেলা আসে, সাথে নিয়ে আসে নতুন বইয়ের ঠিকানা, নতুন লেখকের আবির্ভাব, অনেক প্রকাশকের সন্ধান। বইমেলা চলে যায়, সাথে দিয়ে যায় অনেক নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন পরিচিতি, নতুন আবিষ্কার ও অনেক আনন্দ। তার সাথে রেখে যায় আগামী বছরের আবার বইমেলার অপেক্ষা, চাতকের মত বইপ্রেমীদের তীর্থসঙ্গমে মিলিত হবার প্রতীক্ষা


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, January 7, 2024

জীবনের ব্যথা!

 


জীবন প্রত্যেকের কাছেই খুব মূল্যবান, খুব প্রিয়, খুব ভালোবাসি তাকে আমরা। আর ভালোবাসলে তার যত্ন করতে হয়, খেয়াল রাখতে হয়। কিন্তু বাস্তব ছবি টা বোধহয় অন্যরকম। জীবনটাকে যেন আমরা বড্ড বেশী জটিল করে ফেলেছি। যেটা একটা সরলরেখায় বইতে পারতো তাকে  আমরা অনাবশ্যকভাবে বক্র রেখায় চালনা করে ফেলেছি। প্রয়োজনীয়তা আর চাহিদার মধ্যের পার্থক্যটাকে গুলিয়ে ফেলেছি; নিজেদের সম্পদের দিকে না তাকিয়ে অন্যদের সম্পদের দিকে বড্ড বেশী নজর দিয়েছি। ক্রমাগত অভিযোগ করে নিজেকে কোথাও হারিয়ে ফেলেছি। 

এক অসম প্রতিযোগিতায় ভাগ নিয়ে জীবনকে যেন বড্ড বেশী কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। সেও যেন এতো জটিলতা নিতে নিতে হাঁপিয়ে উঠেছে। অবসন্ন কোনো দুপুরে ক্লান্ত হয়ে বিষণ্ণ হয়ে পড়েছে যা আমরা দেখতে পাইনি বা বলা ভালো দেখতে চাইনি। রাতের অন্ধকারে একাকিত্ব অনুভব করে কেঁদে উঠেছে যে কান্না আমরা শুনতে পাইনি বা বলা ভালো শুনতে চাইনি। সবসময় তাকে একপ্রকার উপেক্ষা করে গেছি।

এই বক্র রেখায় চলতে গিয়ে তীব্র আঘাত পেতে পেতে একসময় সে চুপ করে গেছে আর তার এই নিঃশব্দতা আমরা অনুভবও করতে পারিনি। কোথাও আমরা জীবনকে বড্ড হালকাভাবে নিয়ে নিয়েছি; কোথাও মনে হয়েছে এর ওপর আমার একচ্ছত্র অধিকার, যা খুশি করতে পারি, যেমন খুশি চালাতে পারি, যে শত অত্যাচারেও কোন প্রতিবাদ করবে না।

কিন্তু তারও যে একটা মন আছে সেটা কোথাও আমরা ভুলে গেছি। তারও যে কষ্ট হয়, দুঃখ হয় সেটা যেন আমরা ভাবতেই পারি না। তাই যেখানে খুব সরল ভাবে সাধারণভাবে জীবনকে চালানো যায় সেখানে অনেক জটিল ভাবে কঠিনভাবে তাকে চালাচ্ছি। নিজেদের লোভ, আকাঙ্খা পূরণ করতে গিয়ে তাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলছি, তার ব্যথা ক্রমশঃ বাড়িয়ে তুলছি।

যেদিন সে বিদ্রোহ করে উঠবে সেদিন হয়তো আমরা বুঝতে পারব কতটা অন্যায় তার সঙ্গে আমরা করেছি। আর সেদিন হয়তো প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ টুকুও পাবো না। তাই সময় থাকতে জীবনের জন্য কিছু করতে হলে সরলভাবে কাটানোর চেষ্টা করে তাকে একটু শান্তি আমরা দিতেই পারি। তার ব্যথাকে অনুভব করে সেটাকে কমানোর একটা চেষ্টা অন্তত করতে পারি। যাকে সবথেকে বেশী ভালোবাসি তার জন্য এটুকু তো করাই যায়। তাই না?


ঋতুপর্ণা বসাক

Thursday, December 7, 2023

চেনা অচেনা

 

চেনা অচেনা শব্দ দুটির পুঁথিগত অর্থের সঙ্গে অন্তর্নিহিত অর্থের সংগতি বা অসংগতি সময়, পরিবেশ এবং ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভরশীল। চেনা শব্দের মধ্যে কাছের, নিজের এই ভাবনা গুলো প্রথমে মনে হয়; আবার অচেনা বলতে সাধারণত দূরের, অপরিচিত এই ভাবনাগুলো মনে আসে। কিন্তু প্রকৃতঅর্থে কি সত্যিই তাই হয় সবসময়?

চেনা মানুষ গুলো হঠাৎ করে যেন ভীষণ অচেনা হয়ে ওঠে। তাদের অচেনা রূপটা এতটাই বিস্মকর এবং ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে তাকে সামলাতে জীবনের কিছুটা সময় কখন যে পার হয়ে যায় তা বোঝা যায় না। কাছের সম্পর্ক গুলো যেন হটাৎ করেই হারিয়ে যায়, আর তার সঙ্গে যুক্ত আবেগগুলোও আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে যায়। যে চেনা মুখগুলো দিনের আলোতে স্পষ্ট ছিলো সেগুলো রাতের অন্ধকারে ঢেকে যায়।

আবার কোনো মুহূর্তে হঠাৎ করে কোনো অচেনা মুখ এসে নতুন সম্পর্কে সুন্দর ভাবে এমন করে বেঁধে ফেলে যেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো ইচ্ছাই থাকে না। কোনো কিছুর প্রত্যাশা না করে অচেনা কেউ যখন পাশে এসে দাঁড়ায় তখন যেন জীবনের প্রতি বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হয়। যে অচেনা মুখ কুয়াশার অন্ধকারে অজ্ঞাত ছিলো সে যেন সূর্যের আলোর মতো উদ্ভাসিত হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় এবং নতুন আশার আলো দেখায়।

চেনা মানুষগুলো যখন অনেক দূরে সরে যায়, বা অচেনা মানুষগুলো কাছে চলে আসে, তখন আর চেনা অচেনার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এই চেনা অচেনার মুখোশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই আমাদের জীবনের পথে অভিজ্ঞ করে তোলে, আর সেই মুখোশের আড়ালে থাকা প্রকৃত চেনা অচেনা বন্ধু বা শত্রুর প্রকৃত স্বরূপ চিনতে সাহায্য করে যা আমাদের ভবিষ্যৎ পথের পাথেয়।

চেনা মানুষের দেওয়া আঘাত আর অচেনা মানুষের থেকে পাওয়া উপহার দুটোই আমাদের কাছে সমপরিমান বিস্ময়, আমাদের নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচয় করায়। চেনা অচেনার এই ভীড়ে প্রকৃত চেনা অচেনাকে চিহ্নিত করা একটা গুরুদায়িত্ব হয়ে যায়। চেনা থেকে অচেনা বা অচেনা থেকে চেনা এই মাঝের রাস্তাটুকুই আসল প্রাপ্তি, পরম শিক্ষা। সব চেনা বা সব অচেনা এটা হয় না; কিছু চেনা কিছু অচেনা এই নিয়েই জীবন, এই নিয়েই জগৎ।


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, October 8, 2023

স্মৃতি কথা

 


স্মৃতি বড়ই অদ্ভুত এক ব্যাপার, কখনও হাসায় আবার কখনও কাঁদায়। প্রতি ক্ষণে একটা করে স্মৃতি তৈরী হচ্ছে হয় ভালো, না হয় খারাপ। আজকের মুহূর্ত কাল স্মৃতি হয়ে যায়। অনেক সময় আমরা কোন বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতির অভাব বোধ করি, তার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নয়; কারণ সম্পর্ক পাল্টে যায়, কিন্তু স্মৃতি পাল্টান যায় না; সেই মুহুর্তের স্মৃতি হয়তো আমাদের কোন এক অনাবিল আনন্দ দেয় যা বর্তমানে আমাদের বেঁচে থাকার রসদ জোগায়।

স্মৃতি আমাদের মনে করায় যে কোনোকিছুই স্থায়ী নয়; এখন যে খুশী পরে সে দুঃখীও হতে পারে। সময় খুব মূল্যবান, সে তার গতিতে এগিয়ে চলে। তাই প্রতি মুহূর্তকে উপভোগ করে বাঁচতে হয় যাতে তার একটা সুন্দর  স্মৃতি আমাদের মনে তৈরী হয়। কাছের মানুষ দূরে চলে গেলে সময়ই আমাদের তাঁদের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে শেখায়। অতীতের স্মৃতি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে নতুন রাস্তা দেখায় কারণ অতীতের স্মৃতি থেকে আমরা ঠিক বা ভুলগুলোকে বিশ্লেষণ করে এগিয়ে চলি।

অনেকসময় অতীতের পুরোনো স্মৃতি চোখের সামনে আসতেই মনের ভেতর উথালপাথাল করে ওঠে, দুকূল ছাপিয়ে চোখের বারিধারা নেমে আসে যাকে চেয়েও আটকানো যায় না। আবার কখনও অনেক সুন্দর মুহুর্তের স্মৃতি মনে পড়তেই বুকের ভেতর আনন্দের ঢেউ খেলে যায়, মুখের মধ্যে এক অমলিন, অনাবিল হাসি দেখা দেয়। তাই স্মৃতি আমাদের খুব কাছের কেউ যাকে ছাড়া আমরা ভাবতেই পারি না, যে প্রতি মুহূর্তে আমাদের সঙ্গেই আছে।

স্মৃতি যত পুরোনো হয় তত তার দাম বাড়ে কারণ প্রতিটা স্মৃতি কোন যুগের, কোন সময়ের, কোন মুহুর্তের একটা নতুন অজানা গল্প শোনায়। স্মৃতির পাতা ওল্টালে সেই গল্প গুলোই আমরা দেখতে পাই যা হয়তো কিছু জানা কিছুটা অজানা, খানিকটা নিজের খানিক অন্যের। স্মৃতির এমনই বিশেষত্ব যাকে সময়ও মুছে ফেলতে পারে না। 


মানুষ হারিয়ে যায়, স্মৃতি রয়ে যায়।

মুহূর্ত চলে যায়, স্মৃতি থেকে যায়।।


ঋতুপর্ণা বসাক

Thursday, August 31, 2023

অভিযোগ

 


অভিযোগ এমন একটা শব্দ যার ব্যবহারের কোন সীমা পরিসীমা নেই। এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । চারপাশের পরিবেশের প্রতিটি কোনায় অভিযোগের উপস্থিতি বিদ্যমান। আমরা প্রত্যেকে কোন না কোন কিছু নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করে চলেছি। যা আছে তা নিয়ে কোন কৃতজ্ঞতা বা ধন্যবাদ না দিয়ে যা নেই তাই নিয়ে সর্বক্ষণ অভিযোগ করে চলেছি। আমরা ভুলে যাই যা আমাদের আছে তা বহু মানুষের কাছে এখনও স্বপ্ন। কিন্তু আমরা সেই অনুভূতিটাই হারিয়ে ফেলেছি, যেন তার কোন অস্তিত্বই নেই। কি নেই, কি পাইনি, অন্যের কি আছে আর আমার কি নেই তাই নিয়ে শুধু অভিযোগ করে চলেছি।

অভিযোগ আমাদের কাছে একটা অসুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং নিজেকে রুগী বানানোর একটা মাধ্যম। আমার কাছে কি নেই, আমি কত কষ্টে আছি বা আমাকে কত কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে এই বলে আমরা নিজেদের প্রতিনিয়ত নিগ্রহ করে সকলের সমবেদনা পাওয়ার খেলায় যেন মেতে উঠেছি। আচ্ছা, আমরা কি কখনো ভালো করে তাকিয়ে দেখেছি আমাদের কাছে কি আছে, কত অমূল্য ধনসম্পদ দিয়ে জীবন পরিপূর্ণ, তা নিয়ে কি খুশি হওয়ার চেষ্টা করেছি? আরও উন্নতি করার চেষ্টা অবশ্যই করা উচিৎ কিন্তু বর্তমান সম্পদকে অগ্রাহ্য করে নয়, তাকে শক্তি করে অগ্রসর হওয়া দরকার।

আমরা শুধু অভিযোগ করতে ওস্তাদ কিন্তু নিজেদের সম্পর্কে অভিযোগ শুনতে নারাজ। আমরা আবার নিজেদের খুব মহান ভাবি কি না! এমন একজন মহান মানুষ যে কোন ভুল করতে পারে না, তাই কোন অভিযোগও থাকতে পারে না। আমাদের অবস্থা হয়েছে কোন কিছু ভালো হলে আমিযোগ অর্থাৎ সব কৃতিত্ব আমার, আর না হলেই অভিযোগ অর্থাৎ সবার হয় শুধু আমারই হয়না। কি দারুণ ব্যাপার না! অভিযোগ নিয়ে আমরা এতো ব্যস্ত হয়ে পড়ছি যে জীবনের আনন্দগুলোকে আমরা অগ্রাহ্য করে চলেছি, তাদের অনুভব করতেই পারছিনা।

অভিযোগ যত বেশি হবে চারপাশে সমস্যা তত বাড়বে। সারাক্ষণ শুধু কি নেই এই নিয়ে যদি অভিযোগ করে যাই তবে চারপাশের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়বে; মানুষজন বিরক্ত হবে এবং এড়িয়ে যাবে। তাই যেতে মুহূর্তে আমরা অভিযোগ করা বন্ধ করে দেব সেই মুহূর্ত থেকে জীবনের আনন্দকে উপলব্ধি করতে পারব এবং অনুভব করতে পারব যে আমাদের কি আছে এবং কোন সমস্যা আমাদের নেই যা আমাদের জীবনকে আরও দুর্বিসহ করে তুলতে পারতো।

যে শক্তি এবং সময় আমরা অভিযোগ করতে ব্যয় করি, সেই শক্তি এবং সময় আমরা যদি পরিস্থিতি বদলাতে কাজে লাগাই তবে চিত্রটা হয়তো অন্যরকম হতে পারে। আর সেই প্রচেষ্টায় "I am not the victim, I am the warrior" এই গঠনমূলক ভাবনাকে অস্ত্র হিসাবে কাজে লাগাই তবে অভিযোগের মতো ধ্বংসমূলক অসুখ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হব।


ঋতুপর্ণা বসাক


Sunday, July 30, 2023

ক্ষমার ক্ষমতা

 


ক্ষমা একটা ছোট্ট শব্দ কিন্তু একটা জাদুশক্তি, একটা মন্ত্রবল যা অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান করে দেয়। কিন্তু সহজে পাওয়ার মতো সহজলভ্য সে একেবারেই নয়। ক্ষমা একটা গুণ যা সবার মধ্যে কম বেশি মাত্রায় থাকে। কেউ সহজে ক্ষমা করতে পারে, কেউ পারে না।

দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যেকে নিজের যুদ্ধ লড়ে যাচ্ছে, কখনও কষ্ট পাচ্ছে বা কখনও কষ্ট দিচ্ছে, এটা সবার সাথেই হচ্ছে। হয়তো সবসময় সবকিছু সবার হাতে থাকে না। সজ্ঞানে বা অজান্তে, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে এটা ঘটছে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের এই ঘটনাগুলির পরমক্ষণ হল যে আঘাতের বা কষ্টের পর কতজন ক্ষমা চাইছে আর কতজন ক্ষমা করছে - এটা উভপক্ষের যৌথক্রিয়া। মানবিকতা বজায়ের জন্য উভয়ের সমান মিলিত প্রয়াস।

ক্ষমা মানেই সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে ভুলে যাওয়া নয়। আঘাত ঠিক হয়ে যাওয়া মানে আঘাত ছিল না তা কিন্তু নয়; বরং সেই কষ্টটাকে নতুন ভাবে মনে করা। সেই কষ্ট থেকে আমরা কি কি শিক্ষা লাভ করেছি যা ভবিষ্যতের পাথেয় সেগুলি চিন্তা করে কষ্টটাকে মনে করা। একটা নেগেটিভ অভিজ্ঞতাকে পজিটিভ ভাবে ভাবতে শেখায় ক্ষমা। ক্ষমা অতীত কে বদলাতে পারে না কিন্তু ভবিষ্যৎ, তাকে অবশ্যই পাল্টাতে পারে। অতীতের ব্যর্থ হতাশাকে ভবিষতের এক নতুন আশায় পরিণত করে ক্ষমা।

ক্ষমা একটা যাত্রা, একটা অভিজ্ঞতা যা একজনকে অপরিণত থেকে পরিণত মানুষে রূপান্তরিত করে। কিন্তু এটা কোন সহজ যাত্রা নয়; মনের সাথে, বিবেকের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এই যাত্রা একজনকে সেই গন্তব্যে পৌঁছে দেয় যে জায়গা থেকে একজন আরেজনকে ক্ষমা করে আর সেই অভিজ্ঞতা হয় পরম সুখকর কারণ সেটা তাকে অপরাধবোধ থেকে মুক্তি দেয়। তাই জন্যই বলে "ক্ষমাহি পরম ধর্ম"

ক্ষমা এক বিচিত্র জিনিষ যা ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভরশীল। অনেকসময় কাছের মানুষদের থেকে পাওয়া আঘাত ভুলতে কষ্ট হয় এবং ক্ষমা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অজানা অচেনা ব্যক্তিদের ক্ষমা করা সহজ হয় কারণ তারা অপরিচিত, তাই তাদের থেকে কোন প্রত্যাশাও থাকে না। কিন্তু কাছের মানুষদের থেকে অনেক প্রত্যাশা থাকে, তারা অনেক সুখদুঃখের সাথী হয়। তাই তাদের থেকে প্রাপ্ত আঘাত সহ্য করা যায় না, মনের মধ্যে দাগ কেটে যায়, তাই ক্ষমাও সহজে আসে না। 

William Blake এর উক্তিতে "It is easier to forgive an enemy than to forgive a friend."

পরিশেষে এটাই বলা যে, নিজেকে তিক্ত অতীতে বেঁধে রাখতে না চাইলে এবং এক নতুন ভবিষতের দিকে এগোতে চাইলে ক্ষমা করতে শেখা ভালো কারণ সবার আগে আমরা নিজেকে ভালোবাসি; তাই অন্য কারও জন্য নয়, নিজের মঙ্গলের জন্য, নিজের সুস্থ থাকার জন্য এটা করা

"Forgive others, not because they deserve forgiveness, but because you deserve peace."

                                                                                                                  ----Jonathan Lockwood Huie


ঋতুপর্ণা বসাক



Sunday, June 11, 2023

দেওয়া নেওয়া

 


দেওয়া নেওয়া শব্দ দুটোর মধ্যে একটা সূক্ষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে যা আজকাল এক স্থুল ব্যবসায়িক সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। কেউ কাউকে কিছু দিয়েই তার পরিবর্তে কিছু নেওয়ার কামনা করে, যেন এটা তার প্রাপ্য তার অধিকার। কিছু না নিয়ে শুধু দেওয়া যেন একপ্রকার বিলাসিতা, কল্পনা মাত্র। দেওয়া নেওয়া বর্তমান সমাজের এক কঠিন বাস্তব চিত্র।

কখনও কখনও প্রয়োজনে একজন আরেকজনের কাছ থেকে সাহায্য নেয় সেটা অর্থই হোক বা অন্য কিছু। কিন্তু বর্তমানে কাউকে কিছু দেওয়া মানেই তার ওপর একটা অঘোষিত, অলিখিত অধিকার দেখানোর প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায়। যদি কখনও সেই সাহায্য সেই ব্যক্তি পরিশোধ করেও দেয় তাহলেও কোন এক সময় সে সাহায্য পেয়েছে এই মানসিকতায় তার ওপর অধিকার খাটানোর একটা প্রচেষ্টা থেকেই যায়।

একটা সম্পর্ক দেওয়া নেওয়ার মধ্যে একটা ভারসাম্য। একদিকে শুধুই নেওয়া আর কোন দেওয়া নেই তাহলে সেই সম্পর্ক আর বজায় থাকে না। উভয় পক্ষের দেওয়া নেওয়ার মিলিত প্রচেষ্টা একটা সুষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে, সুন্দর ভাবে বজায় রাখে। সমপরিমাণ দেওয়া নেওয়া প্রয়োজনীয় নয় কিন্তু মানসিকতা আবশ্যক । শুধুই নেওয়া আর কোন দেওয়া নয় এটা একান্ত ভাবেই কাম্য নয়।

জীবন পুরোটাই এই দেওয়া নেওয়া সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরী কারণ সবাই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। যদি কেউ কোন কিছু দিতে অনাগ্রহী থাকে তবে তার কোন কিছু নিতেও আগ্রহী হওয়া উচিৎ নয়। আবার কেউ যদি শুধুই দিয়ে যায় সেই ক্ষেত্রেও দাতার সীমাজ্ঞান থাকা আবশ্যক কারণ অনেকসময় গ্রহীতার সেটা থাকে না, সে শুধু নিতে ব্যস্ত থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে দেওয়ার মধ্যে একটা পাওয়ার আশা থেকে যায় যেটা তার দেওয়ার মানসিকতাকে কলুষিত করে। তাই কাউকে স্বেচ্ছায় কিছু দিলে এটা মনে করে দেওয়া উচিৎ সেটা আর কখনও ফেরত পাবে না। দরকার হলে অল্প দেওয়া ভালো বা সেরকম হলে না দেওয়া। কিন্তু দিলে পাওয়ার আশা কোনও ভাবেই উচিৎ নয় আর নিলে সেটা সবসময় মনে রাখা উচিৎ। তাহলেই সম্পর্ক ভালো থাকবে। তাই, Brian Tracy র উক্তিতে...

Always give without remembering 

& Always receive without forgetting.


ঋতুপর্ণা বসাক

গণ্ডীর ঘরে বাইরে

  মানুষ যুগের সঙ্গে সঙ্গে বড্ড বেশী আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। শুধু নিজের, নিজের পরিবার, নিজের জীবন, নিজের পেশা, নিজের সুখ এইগুলোই প্রত্যেকের জ...

Popular Posts