Saturday, March 16, 2024

সিনেবন

 


জীবনটা মাঝে মাঝে সিনেমার মতো লাগে যেখানে সংলাপগুলো বড্ড বোকা বোকা লাগে, খুব চেনা চেনা লাগে। কিন্তু তারমধ্যেই কিছু সংলাপ তা সে পদ্য হোক বা গদ্য মনে চিরকালের জন্য দাগ কেটে যায়। এই সংলাপগুলো শুনলে মনে হয় যেন এটা আমার জন্যই লেখা হয়েছে বা আমাদের জীবন থেকেই নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে আমরা যেন একেবারেই মিশে যাই।

কখনও জীবনের শিক্ষা থেকে সিনেমা হয় আবার কখনও সিনেমা থেকে জীবনের শিক্ষা নিই। দুটোই একে অপরের পরিপূরক, শিক্ষক, বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং সবশেষে দুইয়ে মিলে হয়ে ওঠে সিনেবন। আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত সিনেমা, নাটক এসব ঘটে চলেছে আর আমরা তার কাহিনীকার, অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালক সব চরিত্র একসাথে চরিত্রায়ন করে চলেছি। যদি সঠিক ভাবে চরিত্রায়ন হয় তবে সিনেমা সুপারহিট অর্থাৎ কোন সমস্যা ছাড়া সব ভালো ভাবে সুসম্পন্ন হয়। আর যদি চরিত্রায়ন ঠিক ভাবে না হয় তো সমস্যার সৃষ্টি এবং তার জন্য নতুন স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু অর্থাৎ সমাধান বার করা।

প্রত্যেকের নিজস্ব একটা সিনেমা আছে, প্রত্যেক বয়সের একটা সিনেমা আছে; কোনটা হাসির, কোনটা কান্নার, কোনটা দুঃখের, আবার কোনটা লড়াইয়ের। এই প্রত্যেকের সিনেমা আমাদের প্রত্যেককে কিছু না কিছু শেখাচ্ছে। একের শক্তি অন্যকে দিয়ে তাকে শক্তিশালী করার আর অন্যের শক্তি নিয়ে নিজের দুর্বলতা দূর করার প্রতিনিয়ত এক নিরলস প্রচেষ্টা চলছে।

জীবনটা উপভোগ করার জন্য; অভিজ্ঞতা, শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সর্বতভাবে সফল হওয়ার জন্য। এই প্রতিনিয়ত হারজিত, সুখদুঃখ, সফল অসফল, হাসিকান্না সবরকম চরিত্রায়নের মাধ্যমে জীবনের রঙ্গমঞ্চে তার উদ্দেশ্য খুঁজে নতুন নতুন সিনেমা তৈরী করে তার সঠিক ভাবে সম্পাদন করে তাকে প্রাণভরে বাঁচাই হল জীবনের মূল মন্ত্র


ঋতুপর্ণা বসাক

Saturday, February 24, 2024

দিকশূন্যপুর

 


জীবন মাঝে মাঝে আমাদের এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করায় যেখানে আমরা কোন দিক খুঁজে পাই না, সম্পূর্ণ অচেনা এক পরিস্থিতিতে আমরা এসে দাঁড়াই। মনে হয় যেন এক পথভ্রষ্ট পথিক নিজের রাস্তা হারিয়ে কোন এক অজানা দেশে এসে উপস্থিত হয়েছে যেখান থেকে সে বুঝতে পারছে না তার কি করা উচিৎ, কোন দিকে যাওয়া উচিৎ। যেন কোন এক দিকশূন্যপুরে তার এক অযাচিত অতিথি হয়ে সে সেখানে এসে পড়েছে যেখান থেকে ফেরাটা অতটাও সহজ নয় তবে অতটা কঠিনও নয়।

কথায় আছে দিক গতির থেকেও বেশী গুরুত্বপূর্ণ কারণ দিক আছে গতি নেই চললেও গতি আছে দিক নেই কখনই চলতে পারে না। কখনও কখনও মনে হয় আমাদের চারদিকে অন্ধকার, কোন দিকে এগোবো? আমরা যেন উদ্দেশ্যহীন ভাবে চলেছি যার কোন শুরু বা শেষ নেই। যে দিক নির্ণয় করে এগিয়েছিলাম সেই দিকে আর এগোবো কি না বা উল্টো দিকে ফিরে যাবো কি না সেই নিয়ে মনে দ্বন্দ্ব তৈরী হতে থাকে। 

মাঝে মাঝে এরকম দিকশূন্যপুরে হারিয়ে যাওয়া ভালো কারণ সেখান থেকেই নতুন রাস্তা নতুন দিক আবিষ্কৃত হয় এবং আমরা নিজেদের নতুন দক্ষতা সম্বন্ধে পরিচিত হই। আমরা হয়তো নিজেরাই জানতাম না আমাদের মধ্যে কোন কোন বিশেষ ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। দিকশূন্যপুরে গিয়ে আমরা তাদের নতুন ভাবে খুঁজে পাই যা আমাদের নতুন দিকের সন্ধান পাইয়ে দেয়। প্রত্যেকেই আমরা কখনও না কখনও কোনভাবে দিকশূন্যপুরে গিয়ে উপস্থিত হই কারণ প্রতিটা নতুন আবিষ্কারই কিছু সময়ের জন্য কোন এক দিকশূন্যপুরে হঠাৎ করে পৌঁছানোর পরই হয়

দিকশূন্যপুর এমন এক জায়গা যেখানে বাহ্যিক কোন উপকরণ বা বস্তু কাজ করে না, একে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। এখানে খুঁজতে হলে নিজের ভেতরে খুঁজতে হয়। গভীর ভাবে নিজের মনের ভেতর উঁকি মারলে সেই হারিয়ে যাওয়া দিক সামনে এসে দাঁড়ায় আর তার সঙ্গে সেখানে পৌঁছানোর রাস্তাও। শুধু শান্ত ভাবে ধৈর্য্য সহকারে মনোযোগ দিয়ে নিজের মনের ভেতর দৃষ্টিপাত করতে হয়। আর সেখানেই ভেসে ওঠে বিশ্বরূপ এবং অনুভূত হয় বিশ্ববোধ যা আমাদের সবাইকে একাত্মবোধে বেঁধে রাখে

জীবন যাত্রায় চলতে চলতে কোন এক ক্লান্ত অবসন্ন মনে নিজেদের আমরা হারিয়ে ফেলি। চেতনার কোন এক গোধূলি বেলায় সব অনুভূতি, ব্যথা বেদনা নিয়ে, স্মৃতি সঞ্চয় করে দেহ মন ভেসে যায় কোন এক সুদূরপানে। সেখানে যেতে যেতে পরিচিত সব রং, রূপ, লোকালয়, পার, চেনা পরিচিত সব দৃশ্য আস্তে আস্তে ক্ষীণ হয়ে আসে। স্থলে, জলে, বিশ্ববৈচিত্র্যে এক নিঃশব্দতা নেমে আসে। আর আমরা হারিয়ে যাই সে এক অচিনপুরে, এক দিকশূন্যপুরে !!!

এক কৃষ্ণ অরূপতা নামে বিশ্ববৈচিত্র্যের পরে
স্থলে জলে। ছায়া হয়ে বিন্দু হয়ে মিলে যায় দেহ
অন্তহীন তমিস্রায়। নক্ষত্রবেদীর তলে আসি
একা স্তব্ধ দাঁড়াইয়া, ঊর্ধ্বে চেয়ে কহি জোড় হাতে—
হে পূষন, সংহরণ করিয়াছ তব রশ্মিজাল,
এবার প্রকাশ করো তোমার কল্যাণতমরূপ,
       দেখি তারে যে পুরুষ তোমার আমার মাঝে এক।       
                                                                                                              - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঋতুপর্ণা বসাক 


Tuesday, January 23, 2024

বই মহোৎসব

 




প্রতি বছর বইমেলা ভরপুর প্রানশক্তি, বিপুল জনজোয়ার, নতুন বই আবিষ্কারের সাক্ষ্য বয়ে নিয়ে চলেছে। ছোট বড় মাঝারি সব স্টল, ছোট ছোট পত্রিকার টেবিল, নতুন নতুন বইয়ের প্রকাশ সব মিলিয়ে যেন এক মহোৎসব চলে। 

এ যেন বইয়ের এক মহাসমুদ্র যাকে যত অন্বেষণ করা যায় ততই নতুন নতুন সব রত্ন বই আবিষ্কার হয়। প্রতিটা বইয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, নিজস্ব নতুনত্ব রয়েছে যার বিষয়, রং, গন্ধ, ওজন, মাপ, ছবি সব একে অপরের থেকে আলাদা। 

কোথাও অনেক বই বিক্রীর খুশি আবার কোথাও কম বিক্রীর মনখারাপ, কোথাও প্রবল উত্তেজনা আবার কোথাও বইমেলার প্রতি এক তীব্র আসক্তি। সব মিলিয়ে বইমেলাকে পরিপূর্ণ করে তোলে যেখানে ক্রেতা, বিক্রেতা, লেখক, পাঠক, এবং অবশ্যই বই সবার নিজ নিজ নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

বইমেলা এমন জায়গা যেখানে অনেক নতুন প্রজন্মের লেখক, চিত্রকর, কবির প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে। অনেকের আশার জায়গা বইমেলা কারণ যত বই বিক্রী হবে তত লেখক, কবি, চিত্রকর, সাহিত্যিকদের নাম হবে, প্রকাশকদের লাভ হবে। লেখকমহলে পরিচিতি হবে, কবিতা, চিত্র, সাহিত্যের জগতে জনপ্রিয়তা বাড়বে।

বইপ্রেমীদের ভালোবাসার জায়গা হল বইমেলা যেখানে অসংখ্য বইয়ের স্টল একসাথে দেখতে পাওয়া যায়, দূরদূরান্ত থেকে প্রকাশকরা বই নিয়ে আসে। একদিকে যেমন স্থানীয় প্রকাশকরা তাদের স্টল সাজায়, তেমনি অন্যদিকে দেশ বিদেশ থেকে আসা বিখ্যাত প্রকাশকরা তাদের বইয়ের পসরা সাজিয়ে তোলে।

বইমেলা আসে, সাথে নিয়ে আসে নতুন বইয়ের ঠিকানা, নতুন লেখকের আবির্ভাব, অনেক প্রকাশকের সন্ধান। বইমেলা চলে যায়, সাথে দিয়ে যায় অনেক নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন পরিচিতি, নতুন আবিষ্কার ও অনেক আনন্দ। তার সাথে রেখে যায় আগামী বছরের আবার বইমেলার অপেক্ষা, চাতকের মত বইপ্রেমীদের তীর্থসঙ্গমে মিলিত হবার প্রতীক্ষা


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, January 7, 2024

জীবনের ব্যথা!

 


জীবন প্রত্যেকের কাছেই খুব মূল্যবান, খুব প্রিয়, খুব ভালোবাসি তাকে আমরা। আর ভালোবাসলে তার যত্ন করতে হয়, খেয়াল রাখতে হয়। কিন্তু বাস্তব ছবি টা বোধহয় অন্যরকম। জীবনটাকে যেন আমরা বড্ড বেশী জটিল করে ফেলেছি। যেটা একটা সরলরেখায় বইতে পারতো তাকে  আমরা অনাবশ্যকভাবে বক্র রেখায় চালনা করে ফেলেছি। প্রয়োজনীয়তা আর চাহিদার মধ্যের পার্থক্যটাকে গুলিয়ে ফেলেছি; নিজেদের সম্পদের দিকে না তাকিয়ে অন্যদের সম্পদের দিকে বড্ড বেশী নজর দিয়েছি। ক্রমাগত অভিযোগ করে নিজেকে কোথাও হারিয়ে ফেলেছি। 

এক অসম প্রতিযোগিতায় ভাগ নিয়ে জীবনকে যেন বড্ড বেশী কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। সেও যেন এতো জটিলতা নিতে নিতে হাঁপিয়ে উঠেছে। অবসন্ন কোনো দুপুরে ক্লান্ত হয়ে বিষণ্ণ হয়ে পড়েছে যা আমরা দেখতে পাইনি বা বলা ভালো দেখতে চাইনি। রাতের অন্ধকারে একাকিত্ব অনুভব করে কেঁদে উঠেছে যে কান্না আমরা শুনতে পাইনি বা বলা ভালো শুনতে চাইনি। সবসময় তাকে একপ্রকার উপেক্ষা করে গেছি।

এই বক্র রেখায় চলতে গিয়ে তীব্র আঘাত পেতে পেতে একসময় সে চুপ করে গেছে আর তার এই নিঃশব্দতা আমরা অনুভবও করতে পারিনি। কোথাও আমরা জীবনকে বড্ড হালকাভাবে নিয়ে নিয়েছি; কোথাও মনে হয়েছে এর ওপর আমার একচ্ছত্র অধিকার, যা খুশি করতে পারি, যেমন খুশি চালাতে পারি, যে শত অত্যাচারেও কোন প্রতিবাদ করবে না।

কিন্তু তারও যে একটা মন আছে সেটা কোথাও আমরা ভুলে গেছি। তারও যে কষ্ট হয়, দুঃখ হয় সেটা যেন আমরা ভাবতেই পারি না। তাই যেখানে খুব সরল ভাবে সাধারণভাবে জীবনকে চালানো যায় সেখানে অনেক জটিল ভাবে কঠিনভাবে তাকে চালাচ্ছি। নিজেদের লোভ, আকাঙ্খা পূরণ করতে গিয়ে তাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলছি, তার ব্যথা ক্রমশঃ বাড়িয়ে তুলছি।

যেদিন সে বিদ্রোহ করে উঠবে সেদিন হয়তো আমরা বুঝতে পারব কতটা অন্যায় তার সঙ্গে আমরা করেছি। আর সেদিন হয়তো প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ টুকুও পাবো না। তাই সময় থাকতে জীবনের জন্য কিছু করতে হলে সরলভাবে কাটানোর চেষ্টা করে তাকে একটু শান্তি আমরা দিতেই পারি। তার ব্যথাকে অনুভব করে সেটাকে কমানোর একটা চেষ্টা অন্তত করতে পারি। যাকে সবথেকে বেশী ভালোবাসি তার জন্য এটুকু তো করাই যায়। তাই না?


ঋতুপর্ণা বসাক

Thursday, December 7, 2023

চেনা অচেনা

 

চেনা অচেনা শব্দ দুটির পুঁথিগত অর্থের সঙ্গে অন্তর্নিহিত অর্থের সংগতি বা অসংগতি সময়, পরিবেশ এবং ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভরশীল। চেনা শব্দের মধ্যে কাছের, নিজের এই ভাবনা গুলো প্রথমে মনে হয়; আবার অচেনা বলতে সাধারণত দূরের, অপরিচিত এই ভাবনাগুলো মনে আসে। কিন্তু প্রকৃতঅর্থে কি সত্যিই তাই হয় সবসময়?

চেনা মানুষ গুলো হঠাৎ করে যেন ভীষণ অচেনা হয়ে ওঠে। তাদের অচেনা রূপটা এতটাই বিস্মকর এবং ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে তাকে সামলাতে জীবনের কিছুটা সময় কখন যে পার হয়ে যায় তা বোঝা যায় না। কাছের সম্পর্ক গুলো যেন হটাৎ করেই হারিয়ে যায়, আর তার সঙ্গে যুক্ত আবেগগুলোও আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে যায়। যে চেনা মুখগুলো দিনের আলোতে স্পষ্ট ছিলো সেগুলো রাতের অন্ধকারে ঢেকে যায়।

আবার কোনো মুহূর্তে হঠাৎ করে কোনো অচেনা মুখ এসে নতুন সম্পর্কে সুন্দর ভাবে এমন করে বেঁধে ফেলে যেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো ইচ্ছাই থাকে না। কোনো কিছুর প্রত্যাশা না করে অচেনা কেউ যখন পাশে এসে দাঁড়ায় তখন যেন জীবনের প্রতি বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হয়। যে অচেনা মুখ কুয়াশার অন্ধকারে অজ্ঞাত ছিলো সে যেন সূর্যের আলোর মতো উদ্ভাসিত হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় এবং নতুন আশার আলো দেখায়।

চেনা মানুষগুলো যখন অনেক দূরে সরে যায়, বা অচেনা মানুষগুলো কাছে চলে আসে, তখন আর চেনা অচেনার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এই চেনা অচেনার মুখোশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই আমাদের জীবনের পথে অভিজ্ঞ করে তোলে, আর সেই মুখোশের আড়ালে থাকা প্রকৃত চেনা অচেনা বন্ধু বা শত্রুর প্রকৃত স্বরূপ চিনতে সাহায্য করে যা আমাদের ভবিষ্যৎ পথের পাথেয়।

চেনা মানুষের দেওয়া আঘাত আর অচেনা মানুষের থেকে পাওয়া উপহার দুটোই আমাদের কাছে সমপরিমান বিস্ময়, আমাদের নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচয় করায়। চেনা অচেনার এই ভীড়ে প্রকৃত চেনা অচেনাকে চিহ্নিত করা একটা গুরুদায়িত্ব হয়ে যায়। চেনা থেকে অচেনা বা অচেনা থেকে চেনা এই মাঝের রাস্তাটুকুই আসল প্রাপ্তি, পরম শিক্ষা। সব চেনা বা সব অচেনা এটা হয় না; কিছু চেনা কিছু অচেনা এই নিয়েই জীবন, এই নিয়েই জগৎ।


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, October 8, 2023

স্মৃতি কথা

 


স্মৃতি বড়ই অদ্ভুত এক ব্যাপার, কখনও হাসায় আবার কখনও কাঁদায়। প্রতি ক্ষণে একটা করে স্মৃতি তৈরী হচ্ছে হয় ভালো, না হয় খারাপ। আজকের মুহূর্ত কাল স্মৃতি হয়ে যায়। অনেক সময় আমরা কোন বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতির অভাব বোধ করি, তার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নয়; কারণ সম্পর্ক পাল্টে যায়, কিন্তু স্মৃতি পাল্টান যায় না; সেই মুহুর্তের স্মৃতি হয়তো আমাদের কোন এক অনাবিল আনন্দ দেয় যা বর্তমানে আমাদের বেঁচে থাকার রসদ জোগায়।

স্মৃতি আমাদের মনে করায় যে কোনোকিছুই স্থায়ী নয়; এখন যে খুশী পরে সে দুঃখীও হতে পারে। সময় খুব মূল্যবান, সে তার গতিতে এগিয়ে চলে। তাই প্রতি মুহূর্তকে উপভোগ করে বাঁচতে হয় যাতে তার একটা সুন্দর  স্মৃতি আমাদের মনে তৈরী হয়। কাছের মানুষ দূরে চলে গেলে সময়ই আমাদের তাঁদের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে শেখায়। অতীতের স্মৃতি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে নতুন রাস্তা দেখায় কারণ অতীতের স্মৃতি থেকে আমরা ঠিক বা ভুলগুলোকে বিশ্লেষণ করে এগিয়ে চলি।

অনেকসময় অতীতের পুরোনো স্মৃতি চোখের সামনে আসতেই মনের ভেতর উথালপাথাল করে ওঠে, দুকূল ছাপিয়ে চোখের বারিধারা নেমে আসে যাকে চেয়েও আটকানো যায় না। আবার কখনও অনেক সুন্দর মুহুর্তের স্মৃতি মনে পড়তেই বুকের ভেতর আনন্দের ঢেউ খেলে যায়, মুখের মধ্যে এক অমলিন, অনাবিল হাসি দেখা দেয়। তাই স্মৃতি আমাদের খুব কাছের কেউ যাকে ছাড়া আমরা ভাবতেই পারি না, যে প্রতি মুহূর্তে আমাদের সঙ্গেই আছে।

স্মৃতি যত পুরোনো হয় তত তার দাম বাড়ে কারণ প্রতিটা স্মৃতি কোন যুগের, কোন সময়ের, কোন মুহুর্তের একটা নতুন অজানা গল্প শোনায়। স্মৃতির পাতা ওল্টালে সেই গল্প গুলোই আমরা দেখতে পাই যা হয়তো কিছু জানা কিছুটা অজানা, খানিকটা নিজের খানিক অন্যের। স্মৃতির এমনই বিশেষত্ব যাকে সময়ও মুছে ফেলতে পারে না। 


মানুষ হারিয়ে যায়, স্মৃতি রয়ে যায়।

মুহূর্ত চলে যায়, স্মৃতি থেকে যায়।।


ঋতুপর্ণা বসাক

Thursday, August 31, 2023

অভিযোগ

 


অভিযোগ এমন একটা শব্দ যার ব্যবহারের কোন সীমা পরিসীমা নেই। এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । চারপাশের পরিবেশের প্রতিটি কোনায় অভিযোগের উপস্থিতি বিদ্যমান। আমরা প্রত্যেকে কোন না কোন কিছু নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করে চলেছি। যা আছে তা নিয়ে কোন কৃতজ্ঞতা বা ধন্যবাদ না দিয়ে যা নেই তাই নিয়ে সর্বক্ষণ অভিযোগ করে চলেছি। আমরা ভুলে যাই যা আমাদের আছে তা বহু মানুষের কাছে এখনও স্বপ্ন। কিন্তু আমরা সেই অনুভূতিটাই হারিয়ে ফেলেছি, যেন তার কোন অস্তিত্বই নেই। কি নেই, কি পাইনি, অন্যের কি আছে আর আমার কি নেই তাই নিয়ে শুধু অভিযোগ করে চলেছি।

অভিযোগ আমাদের কাছে একটা অসুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং নিজেকে রুগী বানানোর একটা মাধ্যম। আমার কাছে কি নেই, আমি কত কষ্টে আছি বা আমাকে কত কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে এই বলে আমরা নিজেদের প্রতিনিয়ত নিগ্রহ করে সকলের সমবেদনা পাওয়ার খেলায় যেন মেতে উঠেছি। আচ্ছা, আমরা কি কখনো ভালো করে তাকিয়ে দেখেছি আমাদের কাছে কি আছে, কত অমূল্য ধনসম্পদ দিয়ে জীবন পরিপূর্ণ, তা নিয়ে কি খুশি হওয়ার চেষ্টা করেছি? আরও উন্নতি করার চেষ্টা অবশ্যই করা উচিৎ কিন্তু বর্তমান সম্পদকে অগ্রাহ্য করে নয়, তাকে শক্তি করে অগ্রসর হওয়া দরকার।

আমরা শুধু অভিযোগ করতে ওস্তাদ কিন্তু নিজেদের সম্পর্কে অভিযোগ শুনতে নারাজ। আমরা আবার নিজেদের খুব মহান ভাবি কি না! এমন একজন মহান মানুষ যে কোন ভুল করতে পারে না, তাই কোন অভিযোগও থাকতে পারে না। আমাদের অবস্থা হয়েছে কোন কিছু ভালো হলে আমিযোগ অর্থাৎ সব কৃতিত্ব আমার, আর না হলেই অভিযোগ অর্থাৎ সবার হয় শুধু আমারই হয়না। কি দারুণ ব্যাপার না! অভিযোগ নিয়ে আমরা এতো ব্যস্ত হয়ে পড়ছি যে জীবনের আনন্দগুলোকে আমরা অগ্রাহ্য করে চলেছি, তাদের অনুভব করতেই পারছিনা।

অভিযোগ যত বেশি হবে চারপাশে সমস্যা তত বাড়বে। সারাক্ষণ শুধু কি নেই এই নিয়ে যদি অভিযোগ করে যাই তবে চারপাশের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়বে; মানুষজন বিরক্ত হবে এবং এড়িয়ে যাবে। তাই যেতে মুহূর্তে আমরা অভিযোগ করা বন্ধ করে দেব সেই মুহূর্ত থেকে জীবনের আনন্দকে উপলব্ধি করতে পারব এবং অনুভব করতে পারব যে আমাদের কি আছে এবং কোন সমস্যা আমাদের নেই যা আমাদের জীবনকে আরও দুর্বিসহ করে তুলতে পারতো।

যে শক্তি এবং সময় আমরা অভিযোগ করতে ব্যয় করি, সেই শক্তি এবং সময় আমরা যদি পরিস্থিতি বদলাতে কাজে লাগাই তবে চিত্রটা হয়তো অন্যরকম হতে পারে। আর সেই প্রচেষ্টায় "I am not the victim, I am the warrior" এই গঠনমূলক ভাবনাকে অস্ত্র হিসাবে কাজে লাগাই তবে অভিযোগের মতো ধ্বংসমূলক অসুখ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হব।


ঋতুপর্ণা বসাক


গণ্ডীর ঘরে বাইরে

  মানুষ যুগের সঙ্গে সঙ্গে বড্ড বেশী আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। শুধু নিজের, নিজের পরিবার, নিজের জীবন, নিজের পেশা, নিজের সুখ এইগুলোই প্রত্যেকের জ...

Popular Posts