Tuesday, December 30, 2025

দুঃখের দুঃখ

 

দুঃখ নামটা শুনলেই মনে হয় কতক্ষণে এর থেকে পালানো যায়, সে যেন ভুল করেও কাছে না আসে। দুঃখের মধ্যেই একটা দুঃখ লুকিয়ে আছে যে সবাই তার থেকে পালাতে চায়, তাকে তাড়াতে চায়। তাকে কেউ অভ্যার্থনা জানায় না। যদি সে কারও জীবনে ঢুকে যায় তাকে কতক্ষণে তাড়ানো যায় সেই চিন্তাই সবাই করে যায়। কিন্তু সে যে কিছু বলতে চায়, তারও যে কিছু বক্তব্য থাকতে পারে সেটা কেউই ভাবে না বা বলা ভালো ভাবতে চায় না। শুধু তাকে তাড়াতে হবে এটাই প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

দুঃখ কার জীবনে কি দুঃখ বয়ে এনেছে সবাই শুধু সেই কথা শোনাতে ব্যস্ত। কিন্তু দুঃখের জীবনে কিছু দুঃখ সেটা কেউই শুনতে রাজী নয়। তারও যে কোন দুঃখ থাকতে পারে সেটা কেউ ভাবতেই পারে না। সবাই এটাই ভাববে “দুঃখের আবার কি দুঃখ? তার তো অন্যকে দুঃখ দেওয়াই কাজ।” কিন্তু প্রকৃত ঘটনা তো তা নয়। দুঃখের কারও জীবনে প্রবেশ করা মানে সেখানে কোন সমস্যা তৈরী হয়েছে যেটাকে ঠিক করতে হবে। অথচ সবাই সেই বার্তাকে উপেক্ষা করে তাকে শাপ শাপান্ত করে চলে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে দুঃখ প্রকৃত মানুষ চিনতে শেখায়। দুঃখের সময় বোঝা যায় কে প্রকৃত বন্ধু আর কে শত্রু।

দুঃখের সঙ্গে কথা বললে দেখা যাবে সেই একমাত্র একজন যার জীবনে কোন আনন্দ নেই কারণ তাকে সবাই অবজ্ঞা করে, অবহেলা করে, ঘৃণা করে, কেউ তাকে ভালোবাসে না। সবার জীবনে সুখ দুঃখ মিলিয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখের জীবনে শুধুই দুঃখ। তাকে যে কেউ পছন্দ করে না, সবাই তার থেকে দূরে থাকতে চায়, তাকে সবার থেকে দূরে রাখতে চায়। তার মনের কথা শোনার যে কেউ নেই। কিন্তু দুঃখেরও একটা মন আছে। সেও চায় সবাই তাকে আপন করে নিক, তাকে গ্রহণ করুক, ভালো না বাসতে পারলেও তাকে বুঝতে চেষ্টা করুক। কারণ দুঃখকে যত বুঝতে চেষ্টা করা যাবে তত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধানের রাস্তা বেরোবো।  

দুঃখ আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে সেটা আমরা মানি বা না মানি। দুঃখ লড়তে শেখায়, মানুষ চিনতে শেখায়, সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। এককথায় দুঃখ একজন অপরিণত মানুষকে বাহ্যিক, মানসিক, সামাজিক, বুদ্ধিগত সব দিক থেকে পরিণত করে তোলে। যে মানুষটা কাল অবধি অন্যের ওপর নির্ভর করতো সে আজ দুঃখের মোকাবিলা করার জন্য নিজে নিজে সব করছে। কারণ তার লড়াইটা তাকেই লড়তে হচ্ছে, অন্য কেউ তার হয়ে লড়ছে না; দুঃখটা তাকেই পেতে হচ্ছে, তার হয়ে অন্য কেউ পাচ্ছে না। অন্যেরা তাকে সাহায্য করতে পারে, তার সঙ্গে থাকতে পারে কিন্তু তার লড়াইয়ে শেষ সিদ্ধান্ত তাঁরই হবেতাই দুঃখ হল প্রকৃত শিক্ষক যে জীবনের শিক্ষা দিয়ে মানুষ তৈরী করে। তাই দুঃখের থেকে না পালিয়ে বা তাকে না তাড়িয়ে তাকে গ্রহণ করে যদি তার কথা শোনা যায়, তার আসার কারণ জানা যায় তাহলে হয়তো দুঃখের দুঃখ কমে এবং তার সঙ্গে আমাদের সমস্যার সমাধান হয় কারণ সেতো আমাদের ভেতরেই আছে, বাইরে থেকে তো আর আসে না। তাই দুঃখের প্রতি বাইরে সর্বসমক্ষে সশব্দে প্রশংসার বদলে অন্তরে নিঃশব্দে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন তো করতেই পারি

ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, November 30, 2025

ঝরাপাতা

 

'ঝরাপাতা' শব্দটা শুনলে কেমন একটা বিয়োগ ব্যথা অনুভব হয়, একটা মন খারাপের রেশ আসে। একটা সতেজ সবুজ পাতা আস্তে আস্তে করে শুকিয়ে গিয়ে ঝরাপাতায় পরিণত হয়। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধরিত্রীর বুকে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু এটাই কি শেষ? সবসময় বোধহয় না

কখনও কখনও কিছু কিছু পাতার মধ্যে থেকে শিকড় বেরিয়ে নতুন গাছেরও জন্ম হয়। সেটা হয়তো অনেক বড় গাছ হয় না, কিন্তু গাছটা সতেজ ও সবুজ থাকে। সবকিছু না হলেও ওই শিকড়টাই তখন বাঁচার সম্বল হয়ে দাঁড়ায় যেটাকে আঁকড়ে ধরে গাছটা নতুন করে বেঁচে ওঠে। ঝরে পড়ার যে বিয়োগ ব্যথা তা নতুন উৎপত্তির আনন্দের সঙ্গে অনেকটাই লঘু হয়ে যায়। 

প্রতিটা ঝরাপাতা আকৃতি, প্রকৃতি, রং, রূপ বিশেষে একে অপরের থেকে আলাদা হয়; প্রত্যেকের নিজস্ব একটা কাহিনী আছে যেটা অন্যের থেকে আলাদা। কিন্তু প্রত্যেকেই একটা ব্যাপারে সমান, আর সেটা হল এরা ঝরাপাতা; যারা ঝরে পড়ার পর আরও বেশী সজীব ও জীবন্ত লাগে। এদের নিজেদের উৎস গাছের সঙ্গে আর কোন সম্পর্ক থাকে না; এরপর হয় এরা মাটিতে বিলীন হয়ে যাবে অথবা নতুন করে শিকড় বার করে মাটি ফুঁড়ে বেঁচে উঠবে।

ঝরাপাতা মানেই সবসময় বিয়োগান্তক নয়। দুঃখের মধ্যে কিভাবে হাসতে হয় তা ঝরাপাতা শেখায়। ভূমির ওপর শায়িত বিভিন্ন রঙয়ের ঝরাপাতা প্রকৃতির বুকে রঙয়ের মেলা সাজিয়ে তোলে যা অতীব চিত্তাকর্ষক হয়। যখন হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা নৃত্য করতে থাকে তখন তাদের সেই আনন্দদান দেখে শিখতে হয় কিভাবে অন্যের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়া যায়; কিভাবে সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নতুন শুরু করা যায়, উৎস থেকে ঝরে গিয়েও পরিণতিতে আবার বেঁচে ওঠা যায়


ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, October 26, 2025

সময়ের সময়

 


কালের নিয়মে সময় তার গতিপথে এগিয়ে চলে। তার চাবিকাঠিতে সর্বদা দম দেওয়া থাকে। সেই অনুযায়ী সে চলতে থাকে। সে কারও জন্য বা কারও কথায় থেমে থাকে না বা বলা যায় থামতে পারে না। একবার যে সময় চলে যায় তা হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও ফিরে আসে না। সময় হল একমুখী, শুধু এগিয়ে যায় পেছনে যেতে পারে না। এটাই তার নিয়তি।

সময় কারও পরোয়া করে না, আবার সে বেপরোয়াও নয়। সময়কে কেউ বেঁধে রাখতে পারে না। সে নিজে বাঁধন ছাড়া কিন্তু গোটা বিশ্বকে এক অদৃশ্য বাঁধনে বেঁধে চালনা করে যাচ্ছে। কি অদ্ভুত ক্ষমতা তার তিনটে কাঁটার যাদের কাছে সমগ্র বিশ্ব বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য। স্বয়ং ঈশ্বরও সময়কে উপেক্ষা করতে পারেন না বা আটকাতে পারেন না। সেই ক্ষমতা তাঁরও নেই। সবাই সময়ের গন্ডিতে আবদ্ধ। সময়কে এড়িয়ে কেউ নিজের মর্জি মত চলতে পারে না। আর কেউ সেই ধৃষ্টতা দেখালে সময় তাকে তার জায়গা বুঝিয়ে দেয়।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে চলে মানুষের জীবন। সময় কিভাবে বদলায় কেউ বলতে পারে না। আজ যা জীবন কাল তা বিপরীত হতেই পারে। আবার আজ যা জীবনে নেই কাল তা হতেই পারে। আসলেই সময়ের হাতে সবাই বন্দী, যখন তখন পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কখনও সেটা প্রবল ঘটনাবহুল হয় আবার কখনও সাধারণ গতিতে চলে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে উপলব্ধি করা যায় প্রতিটা ঘটনা একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তার জন্য নির্ধারিত একটা নির্দিষ্ট সময়েই ঘটছে

কখনও কখনও সময়কে ভরসা করতে নেই, কখন বাজি পাল্টে দেয় কেউ বলতে পারে না। আবার কোন ক্ষেত্রে সময়ের ওপরেই ভরসা রাখতে হয় যে ঠিক সময়ে সব ঠিক করে দেয়। কখনও সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকতে নেই। সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকলে সেই সঠিক সময়টাকে কখনই ধরা যায় না। তাই উচিৎ হল অপেক্ষা না করে ওই সঠিক সময়টাকে নিয়ে আসার জন্য নিজের বা সবার সুবিধার্থে নিজেরই কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাতে তাকে সঠিক সময় বলে আখ্যায়িত করা যায়।

সময় হচ্ছে সবকিছু। সময় সবারই আসে। কিন্তু সময় কারও হাতের পুতুল নয় বা কারও কথায় সে উঠবোস করে না। সে নিজের মর্জির মালিক। সময়ের যখন সময় হয় তখন সে সময়মত সময় নিয়ে সঠিক ভাবে সঠিক কারণে সব সঠিক করে। বলাবাহুল্য, ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ভুল কাজ করার থেকে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সঠিক ভাবে সঠিক কাজ করা অনেক বেশী সঠিক সিদ্ধান্ত।


ঋতুপর্ণা বসাক

Thursday, September 25, 2025

উৎসবের মাহাত্ম্য



উৎসব এমন একটা শব্দ যার সঙ্গে মনের সম্পর্ক। উৎসব শব্দটা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের মধ্যে এক খুশির হাওয়া বয়ে যায়, একটা পজিটিভ অনুভূতি কাজ করে। বিভিন্ন উৎসবের বিভিন্ন রং, সাজসজ্জা, বিভিন্ন অনুভূতি, বিভিন্ন রকম সমারোহ কিন্তু আনন্দ, খুশি, হৈ চৈ এগুলো সব এক; এতে কোন বৈষম্য নেই।

উৎসব একেক জনের কাছে একেক রকম। কারও ঘরে কোন শুভ অনুষ্ঠান, নতুন অতিথি আসা, নতুন কাজ শুরু করা, পরীক্ষায় ভালো ফল করা, কারও সুস্থ হয়ে বাড়ী ফেরা, কোন অন্যায়ের ন্যায় বিচার পাওয়া, কোন না পাওয়া কিছু পাওয়া এই সব উৎসবেরই ভিন্ন ভিন্ন রূপ। উৎসবে কাজ করা মানুষগুলো যাদের রুজি রোজগারের সঙ্গে উৎসব জড়িত তাদের উৎসব শুরু হয় সেই উৎসব শেষ হয়ে যাওয়ার পর। কারণ সেই উৎসব থেকে উপার্জিত অর্থে তাদের ঘরে নতুন জিনিসপত্র আসে, নতুন পোশাক আসে যা উৎসবের বার্তা বয়ে আনে। তাই সবাই যেখানে উৎসব শেষ হলে মন খারাপ করে সেই মানুষগুলো উৎসব শেষের প্রহর গোনে।

উৎসবের অন্য একটা দিকও দেখা যায়। অনেক জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে প্রচুর অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করা হয়। কখনও একে অপরের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অবাঞ্ছিত প্রতিযোগিতায় নেমে, কখনও নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রচুর অর্থের অপচয় করে যেটা কোন প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। বিশেষ বিশেষ উৎসবের কারণে কখনও শব্দদূষণ কখনও বায়ুদূষণ তো কখনও পরিবেশ দূষণ হয় যার দায়ভার সবাই একে অপরের ওপর চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলে। এতকিছুই হয় না যদি মানুষ সীমার মধ্যে থেকে উদযাপনগুলো করে। কিন্তু কিছু মানুষ সেটা ভুলে শুধু নিজের ক্ষমতা দেখানোর জন্য উৎসবকে অস্ত্র করে বিপদসীমা অতিক্রম করে উৎসব উদযাপন করে। উৎসব আনন্দের হয়, তাই দেখতে হয় সেটা যেন কারও কাছে কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

একেকটা উৎসব একেকটা যজ্ঞের সমান। তাতে বহু মানুষ জড়িত থাকে, তার সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের অসীম আবেগ, ভালোবাসা, যত্ন ও পরিশ্রম।  কখনও একদিন তো কখনও তার বেশী দিন, কখনও দিনে তো কখনও রাতে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন উৎসবের উদযাপন হয়। স্থলে, জলে, অন্তরীক্ষে উৎসবের বাতাবরণ তৈরী হয়, আবালবৃদ্ধবনিতা উৎসব মুখর হয়ে ওঠে। 

উৎসব নামক আবেগটা সবকিছু এক করে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বা বলা ভালো সবাই ভেসে যায়। প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং প্রতিদিনের প্রতিযোগিতা থেকে ক্ষনিকের মুক্তি পেতে সবাই কিছু দিনের বা কিছু সময়ের জন্য উৎসবে মেতে ওঠে। উৎসব  সেই  মিলনক্ষেত্র যেখানে রূপ, রং, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে শুধু উৎসবকে ভালোবেসে উদযাপনে মেতে ওঠে। উৎসব ভালো ও খারাপের এক নতুন সংমিশ্রণ যেখানে সবাই অতীতকে আলিঙ্গন করে বর্তমানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হয়

ঋতুপর্ণা বসাক

Sunday, August 24, 2025

কৌতূহল

 


কৌতূহল এমন একটা জিনিস যেটা ছোট বড় সবার মনেই থাকে। আমরা সবাই সব জানি না কিন্তু যদি জানতে চেষ্টা করি তবে তার সবটা জানা যেতে পারে। আর তার জন্য সবার আগে যেটা দরকার সেটা হল সেই বিষয়ের প্রতি কৌতূহল। কোন কিছুকে জানার জন্য কোন বিশেষ গুণ না থাকলেও প্রগাঢ় কৌতূহল তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অনেকটাই সক্ষম হয়।

আমাদের সর্বতোভাবে উন্নয়নের পেছনে শিক্ষা এবং জ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম। আর এই শিক্ষা এবং জ্ঞান বৃদ্ধির প্রথম সোপান হল কৌতূহল। কিছু জানার জন্য খুব বুদ্ধি বা চতুরতা না থাকলেও একটা কৌতূহলী মন বিশেষ ভাবে আবশ্যক। আর এই কৌতূহলই আমাদের জ্ঞানের শিখাটাকে সর্বক্ষণ জ্বলতে সাহায্য করে।

মনে যদি কোন কৌতূহলই না থাকে তবে এগোনোর রাস্তাটাও যেন থেমে থাকে। কৌতূহল হল সেই অস্ত্র যা কোন কিছুকে জানার সন্ধানে সজাগ করে তোলে, সে বিষয়ে উৎসুক করে তোলে। সেখানে যদি কৌতূহলই না থাকে তাহলে জানার আগুনটা নিভে থাকে। মানুষ যেখানে ছিল সেখানেই আটকে থাকে, আর এগোতে পারে না। তাই যত কৌতূহল তত উদ্দীপনা, সৃজনশীলতার প্রকাশ, নতুন রহস্যের উদ্ঘাটন, অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা।

কোন ব্যক্তি বিশেষের ওপর কৌতূহল জন্মানোটা কোন ভুল নয় যদি সেটা সীমার মধ্যে থাকে। অনেক সময় সেই সীমা লঙ্ঘন করে অত্যধিক কৌতূহলী হয়ে অনেকে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়ে যা একেবারেই উচিত নয়। কাউকে জানার কৌতূহল থাকতেই পারে কিন্তু তার ব্যক্তিগত জগৎকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কৌতূহল দেখানোটা কোন সুস্থতার লক্ষণ নয়, এটা একটা অস্বাস্থ্যকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

উদ্দেশ্যহীন ভাবে অন্যের প্রতি ধ্বংসাত্মক কৌতূহলী না হয়ে নতুন গঠনমূলক চিন্তা ভাবনার প্রতি উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে বেশী করে কৌতূহলী হওয়াটা বিশেষভাবে কাম্য। চারিপাশে পরিবেশে লুকিয়ে থাকা অগণিত রহস্যের উদ্ঘাটনের জন্য প্রথম এবং প্রধান অস্ত্রই হল নিরপেক্ষ কৌতূহলী মন যা লক্ষ্যের দিকে অবিচল ভাবে এগিয়ে যায়।


ঋতুপর্ণা বসাক

Friday, June 27, 2025

শ্রোতা ও বক্তা

 


শ্রোতা ও বক্তা শব্দ দুটো নিজেরাই নামের মধ্যে নিজেদের চারিত্রিক গুণাবলী বর্ণনা করে দেয়। একজন বলে একজন শোনে। যে বলে সে বক্তা, আর যে শোনে সে শ্রোতা। বক্তার সর্বদা একজন শ্রোতার প্রয়োজন হয় যার কাছে সে তার মনের সব কথা খুলে বলে। মনের যত রাগ, দুঃখ, অভিমান, ভালো মন্দ সব অভিজ্ঞতা উজাড় করে শ্রোতাকে বলে। আর শ্রোতা ধৈর্য্য ধরে মনোযোগ সহকারে তা শোনে। এটাই প্রকৃত দৃশ্য 'শ্রোতা' ও 'বক্তা' শব্দের ধ্বনিতে মনের মধ্যে ভেসে ওঠে।

অনেক সময় মানুষ এটা ভুলে যায় শ্রোতারও একজন শ্রোতার প্রয়োজন হয়। তারও বক্তা হওয়ার দরকার আছে। সে শুধু সবটা শুনে যাবে আর নিজে কিছু বলবে না এটা হয় না, হতে পারে না। তারও বক্তা হওয়ার ইচ্ছে হয়। নিজের জমানো সব কথা, সুখ দুঃখের গাঁথা অন্যকে সেও প্রকাশ করতে চায়। কোন কিছু প্রকাশ না করে শুধু নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখলে সে তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। নিজের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে না নিলে অন্যরা অনেক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে। তাই নিজের এবং সবার সার্বিক উন্নতির জন্য শ্রোতারও বক্তা হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

শ্রোতার যেমন বক্তা হওয়া দরকার ঠিক তেমনি বক্তারও শ্রোতা হওয়া আবশ্যক। সে শুধু বলে যাবে, কিছু শুনবে না তা তো হতে পারে না। তারও অন্যের কথা শোনা দরকার। অন্যের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। বক্তা যা বলছে শুধু সেগুলোই দরকারী, বাকিদের কথা অদরকারী এই মনোভাব পোষণ করলে জীবনে এগোনোর বদলে আরও পিছিয়ে যাবে। সবার কথাই শোনা দরকার আর তার মধ্য থেকে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের পথে এগিয়ে চলতে হয়।

জীবনে শ্রোতা বক্তা উভয়েরই সমান ভূমিকা রয়েছে। ভালো বক্তা হতে গেলে সবার আগে একজন ভালো শ্রোতা হতে হয়। সবার অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান আহোরণ করে নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হয় আর তারপর সেটা সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। তবেই একজন ভালো বক্তা হওয়া যায়। শুধু নিজের কথা বললে কেউ শুনবে না, একঘেয়ে লাগবে। কিন্তু যখন সবার কথা বলা হয় তখনই সবাই শোনে, মানে এবং শিক্ষা নেয়।


ঋতুপর্ণা বসাক

Thursday, May 22, 2025

শূন্য নাকি পূর্ণ

 

সবাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের খুব অপরিহার্য মনে করে। তারা ভাবে তারা ছাড়া আর কেউ সেই স্থান পূর্ণ করতে পারে না, তাদের ছাড়া সবাই অথৈ জলে পড়ে যায়। কিন্তু এটা কি সত্যি? কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি, নিজের মানুষ ব্যতীত সব শূন্যস্থানই একদিন না একদিন পূরণ হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সময় দায়িত্ব নিয়ে সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। কারও জন্য কোন কিছু আটকে থাকে না কারণ জীবন তো থেমে থাকে না। সে তো নিজের মত কালের নিয়মে বয়ে চলে।

এটা ঠিক যে কারও জন্য কোন কিছু আটকে থাকে না। কিন্তু নিজের প্রিয় মানুষের কিছু হলে সে তার কাছের মানুষের বাঁচার ইচ্ছেটাকেই সঙ্গে করে নিয়ে চলে যায়। সব কান্নার অর্থ যেমন দুঃখ নয় তেমনি সব হাসির অর্থও সুখ বা আনন্দ হয় না। আনন্দেও মন কেঁদে ওঠে আবার মনে হাজার কষ্ট নিয়েও কখনও কখনও হাসতে হয়। প্রিয়জনের শূণ্যতায় সেই শূন্যস্থান শূন্যই থেকে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই হয়তো সেই শূন্যস্থানগুলো সঙ্গে বাঁচতে শিখে যায় কিন্তু সেইগুলো পূরণ করা দুষ্কর হয় যেটা মাঝে মাঝেই ভীষণভাবে অনুভব করায়।

একটা চরম সত্য হল যে রাজার অভাবে রাজত্ব আটকে থাকে না। তার জায়গায় নতুন রাজা এসে শাসন করে। কিন্তু সব রাজা কি সমান হয়? কোন রাজা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজত্বকে নিজের বুদ্ধি আর শক্তির বলে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেয়। নিজের রাজ্যকে সাম্রাজ্যে বিস্তার করে সম্রাট উপাধি লাভ করে যার জন্য তার বীরগাঁথা স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসের পাতায় খচিত হয়। আবার অন্য আরেক রাজার জন্যই সেই সাম্রাজ্যে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। সবাই তো রাজা, একজনের পরিবর্তে অন্যজন রাজত্ব করছে। তাহলে এই পার্থক্য কেন? সাম্রাজ্যের এই উত্থান পতন কেন?

শূন্যস্থান সময়ের সঙ্গে পূর্ণ হয়ে যায়, রাজত্ব চালানোর জন্য রাজাও এসে যায়, নির্দিষ্ট পদের জন্য পদাধিকারীও ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু কতটা সফলতার সঙ্গে সেই পদমর্যাদা সে রক্ষা করছে সেটা সময় বলে। শুরুতে নতুন হলেও সময়, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা তাকে খেলোয়াড় তৈরী করে দেয়। নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিচার বিবেচনাকে যে যত কাজে লাগায় তত সেই পদের যোগ্য অধিকারী হয়। কেউ কম কেউ বেশী কালের নিয়মে সর্বক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তার জন্য নির্দিষ্ট করা পদে নিয়তি ঠিক হাজির করে দেয়। তাই অপরিহার্য এখানে কেউই নয়!!!


ঋতুপর্ণা বসাক

গণ্ডীর ঘরে বাইরে

  মানুষ যুগের সঙ্গে সঙ্গে বড্ড বেশী আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। শুধু নিজের, নিজের পরিবার, নিজের জীবন, নিজের পেশা, নিজের সুখ এইগুলোই প্রত্যেকের জ...

Popular Posts